মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের ছোট কালভার্ট পাইপের দু’প্রান্তে মাটি দিয়ে বন্ধ করে রাখায় উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের মল্লিকপাড়ার বর্ষার পানি প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে ওই গ্রামের শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ পানি নিষ্কাশনের ছোট কালভার্ট পাইপের এক প্রান্তে মৃত আবুল হোসেন মন্ডলের ছেলে আসাদুজ্জামান ওরফে মহিবুল মাটি দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে।
অপর প্রান্তে তারই চাচাতো ভাই মৃত আজিবর রহমানের ছেলে সজীব মাটি দিয়ে ভরাট করে নিজ দখলে নিয়েছে। এতে ওই গ্রামের শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়ে। কেউ কেউ নিজ ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ওই এলাকার আরিফ আলী জানান পানি নিষ্কাশন না হওয়া জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তার দেড় বিঘা সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। আয়ূব মন্ডল ও বিপ্লব অভিযোগ করেন পানি বন্দী হওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যহত হচ্ছে এবং এলাকাবাসী মধ্যে সাপের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রিয়াজ মন্ডল নামের এক কৃষকের কাঁচা ঘরের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে প্রতিবেশি কালু মন্ডলের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। গৃহবধু লাকী খাতুন জানান জলাবদ্ধতার কারণে তারা ঠিকমত রান্না ও বিশুদ্ধ খাবার পানি তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে আসাদুজ্জামান ওরফে মহিবুল জানান বাড়ি নির্মাণের জন্য তিনি মাটি ভরাট করেছে। মাটি ভরাটের সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাবুব মন্ডল উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবী করেন। জনস্বার্থে তার জায়গার সামনে দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করলে তার আপত্তি থাকবে না বলে তিনি জানান।
সজীব মাটি ভরাটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান যে জায়গাটি তাদের নিজস্ব। ওই স্থান দিয়ে পানি প্রবাহের কারণে তাদের ঘর-বাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য তারা মাটি ভরাট করে নিজেদের জায়গা দখলে নিয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু হাসনাত মাহাবুব মন্ডল বলেন, মহিবুলের মাটি ভরাটের আমি উপস্থিত ছিলাম না। সে মুঠোফোনে মাটি ভরাটের বিষয়টি আমাকে অবগত করেন এবং যথা স্থানে ড্রেন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও জানান জনগণের স্বার্থে কালভার্টের পাইপের মুখ খুলে যথাস্থানের স্থায়ীভাবে ড্রেন নির্মাণ হোক।
এ ব্যাপারে বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাইদুল জানান, স্থায়ীভবে জনগণ পানি নিষ্কাশনের জন্য কালভার্ট পাইপ স্থাপন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছিলো। মহিবুলও মুঠোফোনে চেয়ারম্যানকে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে পাইপের মুখ খুলে দেয়া অনুরোধ জানান। তবে স্থানীয় কৃষকদের চাষ কাজ ব্যহত হওয়ায় তারা পাইপের মুখ পরিষ্কারে অসম্মতি জানান। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত আয়ে স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী ড্রেন নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।









