কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মিরপুরে গোপনে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পাঁয়তারা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধলসা পয়ারী হযরত ওমর ফারুক দাখিল মাদ্রাসায় গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসার সুপার এরই মধ্যে গোপনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং অভিভাবক সদস্য পদে নিজের মনোনীত চার জনকে চূড়ান্ত করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তারা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তবে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আজিজুল হকের দাবি, তিনি ম্যানেজিং কমিটির গঠনের জন্য নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু করেছেন। তার দাবি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থীরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের জানাতে পারেন। তিনি বলেন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়নি। জানা যায়, হযরত ওমর ফারুক দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়ে যায়। পরে মিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণা করলেও মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আজিজুল হক সেটি গোপন রাখে। তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকায় তফশিল বিজ্ঞপ্তিটি ছাপিয়ে তার দায় সারেন। নিয়ম অনুযায়ী তফসিলের বিষয়টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের জানানোর কথা। এছাড়া বিষয়টি এলাকায় মাইকিং করেও জানানোর বিধান রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি এসবের কিছুই করেননি মাদ্রাসা সুপার। তাদের অভিযোগ, মাওলানা আজিজুল হক নিজের কাছের চার জন অভিভাবক সদস্য এবং একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মনোনীত করেছেন। তফসিল অনুযায়ী গত ২৭ মে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিন্তু পাঁচজন অভিভাবক সদস্যের বিপরীতে গুনে গুনে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন দেখিয়ে মাদ্রাসা সুপার ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য পদগুলো চূড়ান্ত করেছেন। যাদের চূড়ান্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ব্যাপারে কিছু জানেন না। নতুন কমিটির জন্য মনোনীত অভিভাবক সদস্য রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি এই কমিটি সম্পর্কে কিছু জানেন না। তিনি বলেন, তার ছেলের উপবৃত্তির জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করেছিলেন। পরে মাদ্রাসা সুপার তাকে ফোনে করে ডেকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। রফিকুল ইসলামের দাবি, তিনি মনে করেছিলেন ছেলের উপবৃত্তির কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হওয়ার তার কোন ইচ্ছা নেই এবং তিনি কোন মনোনয়নপত্র কেনা বা জমা দেননি। মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ক্লাসে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কখনোই ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে কোন আলোচনা করেননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহফুজুল হক বলেন, তাদের পরিবারের জমিতে এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সদ্য বিলুপ্ত মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য। তা সত্ত্বেও মাদ্রাসা সুপার নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে তাকে কিছু জানাননি। তিনি বলেন, কিছুদিনের মধ্যে মাদ্রাসায় কয়েকটি পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। সেখান থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা সুপার গোপনে নিজের মনোনীত লোকদের নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পায়তারা করছেন। এলাকার মানুষ এটা কখনো মেনে নেবেন না। ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের মধ্যে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের আগে তফসিলের একটি কপি তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এই মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি গঠনের তফসিলের কপি তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। সম্পূর্ণ গোপনে অনিয়মের মাধ্যমে মাদ্রাসা সুপার এই কমিটি গঠনের পায়তারা করছে। তিনি এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tags :

Desk Reporter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর