বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম, কৃষকের জমি পরিচর্যা এবং কৃষি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস। পরিদর্শনকালে তিনি উপজেলার কুলবাগানসহ বিভিন্ন কৃষি উদ্যোগ ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) পরিদর্শনকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমানসহ কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে উপজেলার কেউপুর এলাকার কৃষক বাহার আলীর কুলবাগান ঘুরে দেখেন অতিরিক্ত পরিচালক। এ সময় তিনি কুল চাষের পদ্ধতি, গাছের পরিচর্যা এবং উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজ নেন। বাগানের সার্বিক অবস্থা দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কুল চাষের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে আলমগীর বিশ্বাস বলেন, কৃষকদের লাভবান হওয়ার ক্ষেত্রে কুল চাষের কোনো বিকল্প নেই। পরিকল্পিতভাবে কুলবাগান গড়ে তোলা, সময়মতো পরিচর্যা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা এ ফসল থেকে ভালো আয় করতে পারেন।
এ ছাড়া তিনি উপজেলার বলিদাপাড়া ব্লকের কৃষক আয়নাল আলীর জমি পরিদর্শন করেন। সেখানে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদসহ অন্যান্য ফসলের পরিচর্যা ও কৃষি কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন কৃষি প্রদর্শনী পরিদর্শন করে কৃষকদের চাষাবাদ পদ্ধতি ও উৎপাদন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
এছাড়া যোগীপোল মাদ্রসায় প্রণোদনার আওতায় রোপণকৃত বৃক্ষের চারা পরিদর্শন করেন।
মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান বলেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি লাভজনক ফল ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফসল চাষ কৃষকের আয় বাড়ানোর একটি সম্ভাবনাময় উপায়। তবে ফসল নির্বাচন, মানসম্মত চারা, সুষম সার প্রয়োগ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং বাজারজাতকরণের ওপর উৎপাদনের লাভজনকতা অনেকাংশে নির্ভর করে। কুলের মতো ফল চাষে পরিকল্পিত বাগান ব্যবস্থাপনা ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পান।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের এ ধরনের পরিদর্শন কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রসার এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।









