কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ভস্ম থেকে জেগে ওঠার লড়াই

সবুজ আলী, খোকসা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর বসোয়া পশ্চিমপাড়ায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার কৃষক পরিবারের ১২টি বসতঘর এবং প্রায় ৫ বিঘার পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাপদাহের প্রভাবে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় কৃষক ইসাহক আলীর বরজ থেকে সূত্রপাত হওয়া আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রান্তিক কৃষক আল আমীন ইন্তাজ, মাসুদ মণ্ডল, সবুজ হোসেন মণ্ডল ও সাবু মণ্ডলের বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য ও ফসল পুড়ে সবমিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা হয়েছে।
খাদিজার বই খোঁজার আকুলতা
অগ্নিকাণ্ডের ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজা ও তার ভাইবোনেরা তাদের পড়ার বই-খাতা খুঁজে ফেরায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু পুড়ে যাওয়া ঘরের ছাইয়ের ভেতর থেকে নামমাত্র দু-একটি গাইড বই ছাড়া পড়ার মতো আর কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি তারা। খাদিজা জানায়, ঘটনার সময় সে পাশেই বরজে কাজ করছিল। দেখতে দেখতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং চোখের সামনে তাদের সাজানো সংসার, শখের পোশাক ও দুপুরের রান্নাকরা খাবার সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসে একাধিকবার ফোন করা হলেও গাড়ি পৌঁছানোর আগেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়।
খোলা আকাশের নিচে ও রান্নঘরে মানবেতর জীবন
পোড়া ভিটায় সিমেন্টের বস্তা টাঙিয়ে কোনোমতে রাত পার করছেন আল আমীন ইন্তাজের পরিবার। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত মাসুদ মণ্ডল তাঁর স্ত্রী রিক্তা খাতুন ও চার সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাবার বাড়ির রান্নাঘরে। মাসুদের ঘরে থাকা প্রায় ১৫০ মণ পেঁয়াজ, ধান, গম, ডাল ও বীজ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের দিন পুরুষরা গ্রামে না থাকায় এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে দেরি করায় মুহূর্তের মধ্যে সর্বস্ব হারিয়ে এই পরিবারগুলো এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।
প্রশাসনের বক্তব্য ও সহায়তার অপেক্ষা
খোকসা ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর মতো কোনো রাস্তা না থাকায় তাদের পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়েছে। ভয়াবহ এই ক্ষতির মুখে পড়েও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহযোগিতা পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয় শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস জানান, কৃষকদের সহায়তায় গ্রামবাসী এগিয়ে এসেছে এবং সরকারি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে তা ইউএনও দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গ্রামের মানুষের সাহায্য না পেলে তাদের না খেয়ে মরতে হতো বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।
Tags :

সবুজ আলী - খোকসা প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর