কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্কে কুমারখালীবাসী

মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার ফাঁকা রাস্তায় বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। দিনে বিচরণ কম চোখে পড়লেও বিকেল গড়াতেই বাড়ছে সংখ্যা। উপজেলার বিভিন্ন অলিগলি ও সড়কে কুকুরের চিৎকার আর চেঁচামেচিতে রাতের নিস্তদ্ধতা ভাঙছে। গত ১২ ঘন্টায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছে। আহত সকলেই জেলা সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে আহতদের মধ্যে ৫ জনের জখম বেশি হয়েছে। হঠাৎ করেই বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। কুমারখালী তেবাড়িয়া গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে এক শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার তেবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। ছোট বাচ্চারা ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে তেবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রথম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে পাগলা কুকুর তাকে কামড়ে গুরতর আহত করে। এর পর থেকে ছোট বাচ্চাদের মধ্যে এমন আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরগুলো হঠাৎ মানুষের ওপর চড়াও হয়। এরপরই কামড়ানো শুরু করে। ভুক্তভোগী কেউ কেউ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার কেউ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ইনজেকশন নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী রিপন বিশ্বাস  বলেন, দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাওয়ার চথে হঠাৎ কুকুর এসে তার পায়ে কামড় দেয়।

ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে  ভ্যাকসিন নেওয়া হয়েছে। এদিকে আর এক  ভুক্তভোগী খলিল বলেন, আমি দুপুর বেলায় বাসায় যাচ্ছিলাম। তখন পেছন থেকে একটি কুকুর এসে আমার পায়ে কামড় দেয়। আমি ফার্মেসি থেকে ইনজেকশন নিয়েছি। কুকুরের কামড়ে চরম ভাবে আহত হয়েছি। কুকুর নিধন করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, কুকুরের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন । হাস, মুরগি, ছাগল,গরু কিছুই পোষা যাচ্ছে না।

সুযোগ পেলেই কুকুর প্রাণী গুলো খেয়ে ফেলে এবং মারাত্মক ভাবে  আহত করে। কুকুর নিধন হচ্ছে না কেন জানি না। চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের কামড়ে সংক্রমণ, টিটেনাস রোগের আশঙ্কা থাকে। শিশুদের নাক-মুখে কুকুর কামড়ালে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই তারা মারা যায়। র‌্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর বা চিকার মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ ছড়ায়। আমাদের দেশে মূলত কুকুরের কামড়ে বা আঁচড়ে (রক্ত বের না হলেও) জলাতঙ্ক রোগ বেশি হয়।

তাদের মতে, শরীরের কোন অংশে কামড় বা আঁচড় দিয়েছে, তার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কতদিনে জলাতঙ্ক দেখা দেবে। সাধারণত এক সপ্তাহ থেকে তিন মাসের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। শরীরের নিচের অংশে কামড় বা আঁচড় দিলে এবং এর মাত্রা কম হলে সাত বছর সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে মানুষ সাধারণত বাঁচে না। কুমারখালী পৌরসভার নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুর রহমান বলেন, কুকুর নিধন কর্মসূচি আপাতত হাইকোর্টের নির্দেশ বন্ধ আছে। কুকুর কামড়ালে যে ভ্যাকসিন পৌর সভার দেওয়া হতো সেটিও বন্ধ আছে। এই বিষয়টি জনস্বাস্থ্য বিভাগ ভালো বলতে পারবে।

Tags :

Desk Reporter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর