দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে বাড়িতে আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাস নামে এক নববিবাহিত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে উপজেলার হোগলবাড়ী ইউনিয়নের গাছেরদিয়াড় গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আনাস ওই গ্রামের মো. ইউসুফের একমাত্র ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বিয়ের আনন্দে মুখরিত বাড়িটি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিণত হয়েছে কান্না ও আহাজারির স্থানে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনাসের বিয়ে পারিবারিকভাবে বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়। প্রায় দুই মাস আগে আলীনগর এলাকায় তার বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নববধূকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি। শুক্রবার বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করার প্রস্তুতিও চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও অতিথিদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল।
এ সময় আনাস একটি স্ট্যান্ড ফ্যানের পাশে চেয়ারে বসেছিলেন। হঠাৎ ফ্যানটি তার শরীরের ওপর পড়ে যায়। এতে বৈদ্যুতিক সংযোগের কারণে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওনা দেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন হোসেন বলেন, রাতে স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুতায়িত হয়ে আনাসের মৃত্যু হয়েছে।
প্রায় দুই মাস আগে আলীনগর এলাকায় তার বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নববধূকে বাড়িতে আনা হয় এবং শুক্রবার বৌভাতের আয়োজন ছিল। কিন্তু আকস্মিক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই সব আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। আনাসের সাবেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহসিন রেজা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আনাস গত ১৯ আগস্ট আমার সঙ্গে হাসি মাখা মুখে দেখা করেছিল। আমি আনাসকে অনেক শাসন করেছি, ভালোবেসেছি, সে আমার সঙ্গে দেখা হলেই বলত স্যার একটা মারেন।
১৯ আগস্ট সেটাই বলেছিল, কিন্তু আনাস চলে গেল? ভাবা যায়! আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিক। আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গাছেরদিয়াড় গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে আনাসের পরিবার। স্থানীয়দের ধারণা, স্ট্যান্ড ফ্যানে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে ফ্যানটি বিদ্যুতায়িত হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই। বিষয়টি জানতে এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে ইতোমধ্যে সেখানে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।









