কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তারাপুর বাজার। বাজারের পাশের ফাঁকা স্থানে ছোট্ট জায়গায় তৈরি করা হয়েছে স্টেজ-প্যান্ডেল। সেখানে সাড়িবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে শতাধিক প্লাস্টিকের চেয়ার। তাতে গেরে বসে আছেন শতাধিক নানাবয়সি মানুষ। তারা কেউ ভ্যানচালক, কেউ অসহায়, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। তাদের কারো হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে জীবিকার্জনের জন্য ভ্যানগাড়ির চাবি। কারো দেওয়া হচ্ছে নগদ টাকা। এসব পেয়ে ব্যাপক খুশি তারা।
গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিন উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের তারাপুর বাজার এলাকায় এসব দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে ‘ ফেসবুকের কল্যাণে ফিরে পাচ্ছে নতুন জীবন ‘ প্রতিপাদ্যে নতুন ভ্যান বিতরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এলাকার যুব সমাজ। মৎস্য চাষি ও মানবিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সুজন আলীর সার্বিক সহযোগীয় অন্ষ্ঠুানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম।
আয়োজকরা জানায়, মানুষের অসহায়, দুঃখ – দুর্দশা ও দৈন্যতা তুলে ধরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সুজন আলী। তা দেখে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনিরুলসহ বিভিন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারী নগদ টাকা অনুদান পাঠায় সুজনের কাছে। অল্পদিনে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকার একটি ফান্ড তৈরি হয়। সেখান থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভ্যান কিনে চালক ওয়াশিমকে প্রদান করা হয়। এছাড়াও ২৭ জন অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
ভ্যানচালক ওয়াশিম মালিথা উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের এদ্রাকপুর গ্রামের কাসেম মালিথার ছেলে। তিনি বলেন, ‘ ১৫ দিন আগে নিজবাড়ি থেকে আয়ের একমাত্র সম্বল ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। স্ত্রী, দুই সন্তান ও মা – বাবা নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছিল। বিষয়টি সুজন ফেসবুকে ছাড়লে অনেকেই সাহায্যের কথা বলেছিলেন। আজ একটা নতুন ভ্যান কিনে দিছে। এতে খুব খুশি। আবার কর্ম করে খেতে পারবো।’
তারাপুর এলাকার ভ্যানচালক জুলমত আলী বলেন, কয়দিন ধরে মাইকিং হচ্ছিল এখানে ভ্যানচালকদের সহযোগীতা করা হবে। তা শুনে এসে এক হাজার টাকা পাইছি। ভ্যান মেরামতের কাজ করব।
মহেন্দ্রপুর এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ কাশেম আলী বলেন, শরীরে মেলা রোগ। প্রতিদিনই অনেক টাকার ওষুধ লাগে। সুজন এক হাজার টাকা দিছে। ওষুধ কিনে খাবনে। সুজনের মতো সকলেই সাহায্য – সহযোগীতা করলে গরিব মানুষ এটু বাঁচতনে।
আয়োজক সুজন আলী বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন সময়ে মানুষের দুঃখ – দুর্দশা তুলে ধরে পোষ্ট করা হয়েছিল। তা দেখে অনেকেই টাকা পাঠিয়েছে। সেখান থেকে আজ (গতকাল) ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একজনকে ভ্যান ও ২৭ জনকে নগদ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।









