খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১:৪৪ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দাবার ছকে মেধা, কৌশল আর ধৈর্যের লড়াই শেষে কুষ্টিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে ড. কাজী মোতাহার হোসেন আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা অনুর্ধ্ব-২০। দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে থেকে তরুন তরুণী রেটেড উদীয়মান দাবাড়ুরা অংশ নেন। এ প্রতিযোগীতায় ৬৬ জন খেলোয়াড় অংশ গ্রহণ করেছিলেন।
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মঈদ বাবুল, জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজবাউর রহমান পিন্টু, জেলা কৃষকদলের আহবায়ক আরিফুর রহমান সুমন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মুস্তানজিদ, জেলা ক্রীড়া অফিসার তানভীর হোসেন।
কুষ্টিয়া এসিপিবির আয়োজনে ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের উদ্যোগে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম চত্বরে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি রাউন্ডে ছিল টানটান উত্তেজনা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা। অনুষ্ঠানে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, কুষ্টিয়া এসিপিবির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজু, সাধারণ সম্পাদক মুহায়মেনুল ইসলাম খোকন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর আলম মঞ্জু। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুল গাফফার।
এসময় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, দাবা মেধা বিকাশে সহায়ক একটি খেলা। বাচ্চারা যাতে মাদকাসক্ত না হয় সে লক্ষ্যে এই প্রতিযোগীতার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া ইতিমধ্যে আমরা কুষ্টিয়া দাবা একাডেমি উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দাবার একটি চাল দেওয়ার আগে যেমন একজন দাবাড়ুকে কয়েক ধাপ পরের পরিস্থিতি চিন্তা করতে হয়, তেমনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেও আমাদের দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
আজ যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদের অভিনন্দন জানাই। আর যারা কাঙিক্ষত সাফল্য পাননি, তাদের বলব হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াটাই একটি বড় অর্জন। পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে আগামী দিনে আপনারাই আরও ভালো করবেন। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই কুষ্টিয়ার প্রতিটি শিশু-কিশোর ও তরুণ লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হোক। মাদক, সন্ত্রাস ও নানা ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। তাই দাবাসহ সব ধরনের খেলাধুলার প্রসারে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার আরও বলেন, আমরা সবাই জানি উপ-মহাদেশে দাবার একটা ঐতিহ্য আছে। এই দাবা খেলার সৃষ্টি হয়েছিলো আমাদের উপ মহাদেশে। এখন থেকে দেড় হাজার বছর আগে দাবা খেলার সূচনা হয়। আমাদের পাশের দেশ ভারত দাবা খেলায় ভালো করছে। উপমহাদেশে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো মুর্শেদ। তারপরে কিন্তু আমরা সফলতা পায়নি। এই খেলাটার চর্চা না থাকায় আমাদের দেশে চ্যাম্পিয়নের সংখ্যা বাড়ছে না। কুষ্টিয়ার সন্তান ড. কাজী মোতাহার হোসেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন পাঁচ বার। উনি অল পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ৩১ বার। আমরা কিন্তু কুষ্টিয়ার মানুষ সেটা জানি না।
এই প্রতিযোগীতার মাধ্যমে তরুন প্রজন্ম যুব সমাজ ড. কাজী মোতাহার হোসেন ও দাবা খেলা সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি আরো বলেন, দাবা এমন একটি খেলা, যেটা কখনো একভাবে শেষ হয় না। দাবার এতো বেশি কম্পিটিশন আছে, যেটা শেষ করতে অনেক সময় লাগে। দাবা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, ধৈর্য, মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। কুষ্টিয়া জেলা সিমান্তবর্তী এলাকা। এখানে মাদকের একটা কালো থাবা তরুন যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। মাদক থেকে তরুন যুব সমাজকে বের করে এনে জাতি গঠনে তারা যাতে সঠিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারে সে লক্ষ্যে কুষ্টিয়াতে আমরা বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজন করছি।
জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুষ্টিয়াতে ক্রীড়া অঙ্গনে আবারো মুখরিত করতে পারি। দাবা আভিজাত শ্রেণীর খেলা। ধর্য্য সহকারে খেলতে হয়। সবার ধর্য্য আসে না। মেধা বিকাশের আলামত দাবা খেলা। দাবার মধ্যে যে আবির্ভাবটা আছে, সংসার, সামাজিক বলেন দাবার চাল একটা আলাদা জিনিস। এটা যদি কেউ ভূল করে তাহলে দাবা আমাদের সেটা শিখিয়ে দেয়।
আর যদি সঠিক চাল দেওয়া যায়, জীবনে সর্বক্ষেত্রে সঠিক চাল দিলে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। দাবার মূল যে বার্তা সেটা বেশি বেশি আলোচনায় এনে জানান দিতে হবে, কোন আবেগে বা ভূলে ভূল চাল কখনো দিবো না। সেটা ব্যবসা বানিজ্যে হোক, চাকরি বা খেলার ক্ষেত্রে বলেন সব ক্ষেত্রে বুঝে শুনে এগিয়ে যেতে হবে। এছাড়া এসিপিবির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজু বলেন, “দাবা শুধু একটি খেলা নয়, এটি মেধা বিকাশ ও কৌশলগত চিন্তার অন্যতম মাধ্যম।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা তরুণদের দাবার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং নতুন প্রতিভা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। পরে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুর্ধ্ব-২০ এ প্রতিযোগীতায় বাংলাদেশ ও ভারতের খেলোয়াড়রা অংশ নিয়েছিলো। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের জয়পুর হাট জেলার নাফিজ ফুয়াদ জাহিন, রানার্সআপ ঢাকার আর হাম ওমর ও ৩য় স্থানে ভারতের আয়শি রয়। মনোমুগ্ধকর পরিবেশে খেলা সম্পন্ন হওয়ায় অংশগ্রহণকারীরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য