খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ১:৪৬ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে ড. কাজী মোতাহার হোসেন আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশি দাবাড়ুরাও অংশ নিয়েছেন এ প্রতিযোগিতায়। গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম এলাকায় দুই দিনব্যাপী অ্যাসোসিয়েশন অব চেস প্লেয়ার্স বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে খেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। জেলা বিএনপির এই শীর্ষ নেতার উদ্যোগে অনুর্ধ্ব-২০ খেলার আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী খেলায় ৬৬জন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছে বলে আয়োজকরা জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসিপিবি কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও দি কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার প্রমূখ। এতে সঞ্চালনা করেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুল গফফার।
এসময় জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুষ্টিয়াতে ক্রীড়া অঙ্গনে আবারো মুখরিত করতে পারি। দাবা আভিজাত শ্রেণীর খেলা। ধর্য্য সহকারে খেলতে হয়। সবার ধর্য্য আসে না। মেধা বিকাশের আলামত দাবা খেলা। দাবার মধ্যে যে আবির্ভাবটা আছে, সংসার, সামাজিক বলেন দাবার চাল একটা আলাদা জিনিস। এটা যদি কেউ ভূল করে তাহলে দাবা আমাদের সেটা শিখিয়ে দেয়। আর যদি সঠিক চাল দেওয়া যায়, জীবনে সর্বক্ষেত্রে সঠিক চাল দিলে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। দাবার মূল যে বার্তা সেটা বেশি বেশি আলোচনায় এনে জানান দিতে হবে, কোন আবেগে বা ভূলে ভূল চাল কখনো দিবো না।
সেটা ব্যবসা বানিজ্যে হোক, চাকরি বা খেলার ক্ষেত্রে বলেন সব ক্ষেত্রে বুঝে শুনে এগিয়ে যেতে হবে। এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, দাবার ছকে মেধা, কৌশল আর ধৈর্যের লড়াইয়ে শেষ হবে এই খেলা। তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি উপ মহাদেশে দাবার একটা ঐতিহ্য আছে। এই দাবা খেলার সৃষ্টি হয়েছিলো আমাদের উপ মহাদেশে। এখন থেকে দেড় হাজার বছর আগে দাবা খেলার সূচনা হয়। আমাদের পাশের দেশ ভারত দাবা খেলায় ভালো করছে। উপমহাদেশে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো মুর্শেদ। তারপরে কিন্তু আমরা সফলতা পায়নি। এই খেলাটার চর্চা না থাকায় আমাদের দেশে চ্যাম্পিয়নের সংখ্যা বাড়ছে না।
কুষ্টিয়ার সন্তান ড. কাজী মোতাহার হোসেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন পাঁচবার। উনি অল পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ৩১ বার। আমরা কিন্তু কুষ্টিয়ার মানুষ সেটা জানি না। এই প্রতিযোগীতার মাধ্যমে তরুন প্রজন্ম যুব সমাজ ড. কাজী মোতাহার হোসেন ও দাবা খেলা সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি আরো বলেন, দাবা এমন একটি খেলা, যেটা কখনো একভাবে শেষ হয় না। দাবার এতো বেশি কম্পিটিশন আছে, যেটা শেষ করতে অনেক সময় লাগে। এর আগেও আমরা দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম। তবে এবারের খেলা তরুন তরুণীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় চর্যা করলে এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে দেশের জন্য সু-নাম অর্জন করবে।
এসময় অতিথিরা বলেন, দাবা শুধু একটি খেলা নয়, এটি মেধা ও কৌশল বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। তরুণদের দাবার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন। প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলার রেটিংপ্রাপ্ত তরুন তরুণী দাবাড়ুদের পাশাপাশি বিদেশি খেলোয়াড়রাও অংশগ্রহণ করেছেন। দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। এদিকে দাবা প্রেমীদের উপস্থিতি ও উৎসাহে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে পুরো আয়োজন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কুষ্টিয়া আন্তর্জাতিক দাবা আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আরও পরিচিতি লাভ করবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য