কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে: অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে নৌকা বাইচের আজ বিজয়ী দল নির্ধারন হবে। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ঘোড়াই ঘাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির নিয়ম অনুযায়ী গতকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ছিলো ফাইনাল খেলা।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু জাফর, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু, দি কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক হাজী রবিউর রহমান প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান হোসেন ইউনুস, পরিচালনা করেন দি কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ফুহাদ রেজা ফাহিম, সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মসলেম উদ্দিন। এছাড়া কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মালিথাসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কালের বিবর্তনে অনেক লোকজ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে নিয়মিতভাবে এ ধরনের আয়োজন করা হোক। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে আমাদের সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে এবং গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেঁচে থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে আমাদের ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে।

এ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বৈঠার ছন্দে একের পর এক নৌকা ছুটে চলার দৃশ্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দুপুরের পর থেকেই গড়াই নদীর তীরে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। নদীর দুই পাড়, হাটশ হরিপুর ব্রিজে দাঁড়িয়ে দর্শকেরা নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলোর মাঝিদের বৈঠার তালে তালে নদীর পানিতে সৃষ্টি হয় ছন্দময় এক আবহ। বাইচ চলাকালে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়।

স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেকে নৌকা বাইচ দেখতে আসেন। তিন দিনব্যাপী এ উৎসবকে ঘিরে বসেছে গ্রামীন মেলাও। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্য নৌকা বাইচ। গ্রামীণ মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি এই আয়োজনের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গড়াই নদীতে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এ ধরনের আয়োজন করা হলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা আরও বিস্তৃত হবে। এদিকে ফাইনালে অংশ নেয় নিউ শাপলা সৈয়দপুর ও নিউ জনতার সংগ্রাম। তবে দুটি দল একত্রিত বিজয় নিশানা ভেদ করে। আয়োজক কমিটি টচ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে পুনরায় প্রতিযোগিতা করবেন বলে জানান উক্ত দুটি দল। সে লক্ষ্যে আয়োজক কমিটি ঘোষণা করেন ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে বিজয়ী দল নির্ধারনে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তৃতীয় দিনে ফাইনাল প্রতিযোগিতা শেষে দুটি দল খেলায় ড্র করায় তৃতীয় দলসহ অংশ নেওয়া অন্যান্য দলকে পুরস্কৃত করা হয়।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর