খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ২:২৮ এএম

মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালীতে টিসিবি পণ্য তালিকায় চাল থাকলেও কার অবহেলায় ১৮৫৫ কেজি সরকারি চাল থেকে বঞ্চিত ভুক্তভোগীরা। জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভায় মোট ১৪৮১ টি টিসিবির কার্ড রয়েছে। বিপরীতে চারজন টিসিবির ডিলার রয়েছে। এই চারজনকে আবার বরাদ্দ অনুযায়ী চাল সরবরাহ করে থাকেন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর (ওএমএস) চার ডিলার। বরাদ্দ অনুযায়ী জনমাসে প্রতিটি কার্ডে ৫ কেজি করে চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, এককেজি চিনি, ২ লিটার সয়াবিন তেল ও দুই পদের সাবান রয়েছে। গত বুধবার তিনজন ডিলার চালসহ বরাদ্দকৃত পণ্য বিক্রি করেছেন।
তবে রোহান স্টোর নামের ডিলার নিজে পণ্য বিক্রি না করে আরিফুল ড্রেডার্স নামের ডিলারকে দাঁয়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আরিফুল ট্রেডার্স বুধবারের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার পণ্য বিক্রি করলেও দেননি চাল ও দুই পদের সাবান। এতে সরকারের এমন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অন্তত ৩৭১ ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার সকাল ১১ টার দিক লাইনে দাঁড়িয়ে ৪টার দিক বলল মাল নাই। ফিরে গেছি। আজ আবার ২০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে আসলাম। কিন্তুই আসল মাল চালই দিলোনা। লসই তো হলো। ৫ কেজি চাল পালি খাওয়া যাতোনে।‘
গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভা চত্বরে টিসিবির পণ্য কিনতে এসে আক্ষেপ করে কথা গুলো বলছিলেন সরস্বতী সরকার। তিনি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকার নারায়ন সরকারের স্ত্রী। নারায়ন সরকার প্যারালাইজড রোগী বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ৫৭০ টাকায় ৫ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক লিটার সয়াবিন তেল, একটি করে বিউটি সোপ ও একটি লন্ড্রি সোপ দেওয়ার কথা। কিন্তু ৩৯০ টাকায় ডাল, চিনি আর তেল দিয়েছেন ডিলার। ভ্যানচলক ফজল শেখ বলেন, ‘ ( বুধবার) লোকের বহুত চাপ ছিল বলে চলে গেছি।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দেখছি চাল দিচ্ছেনা। চালতো আমাদের বাজেটে ছিল। সেই চালডা গেল কোনে? আমরা ভ্যানচালক। কষ্টের মধ্যেই থাকি। চালডা হলে তো একটা সপ্তাহ পার করতে পারতাম।’ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, পৌর কার্যায়ের নিচতলার বারান্দায় বিক্রি করা হচ্ছে টিসিবির পণ্য। নেই মূল্য তালিকা বা ডিলার পয়েন্টের সাইনবোর্ড। চাল ও সাবান ছাড়াই ৩৯০ টাকায় ডাল, তেল ও চিনি বিক্রি হচ্ছে। এতে অখুশি ভুক্তভোগীরা। এ সময় মেসার্স আরিফুল ট্রেডার্সের প্রতিনিধি আতিক হাসান বলেন, রোহান ট্রেডার্সের মালিক অসুস্থ। হঠাৎ পণ্য বিক্রির দাঁয়িত্ব দেওয়ায় সময়মতো ডিও করা সম্ভব হয়নি।
আবার ওএমএস ডিলার মিরাজ হোসেন চালের ডিও করেননি। সেজন্য চাল ও সাবান ছাড়াই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। চালের জন্য ভুক্তভোগীরা তর্কাতর্কি করছেন। এলংগী কুড়ালপাড়ার মৃত জাবেদ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ গতকালকে ঠেলেঠেলে চাল, ডাল, তেল, গাঁয়ে মাখা সাবান, কাপড়কাচা পাউডার নিয়ে গিছি। কিন্তু সাবান আর পাউডার খুবই নিম্নমানের। সেই কথা বলতে আজ আবার আইছি।’ তবে তিনি সাবান ও পাউডারের কোম্পানীর নাম বলতে পারেননি। এলংগী এলাকার শফিকুলের স্ত্রী বিলকিস খাতুন বলেন, সরকার মাসে একবার যাই দিক চালডায় কাজে লাগে। কিন্তু সেই চালই ডিলার দিচ্ছেনা।
সামনে যেন আগে চাল দেয় সেই ব্যবস্থা করেন। অভিযোগ অস্বীকার করে ওএমএস চালের ডিলার মো. মিরাজ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘অফিস থেকে চালের ডিও করার কথা বলা হয়নি। সেজন্য চালও তোলা হয়নি। খবর পেলে অবশ্যয় চাল তুলতাম। কয়ডা পয়সাতো ব্যবসা হতো।’ পৌরসভায় চারজন ওএমএস চালের ডিলার। তাঁরা টিসিবির ডিলারকে চাল দিয়ে থাকেন। কিন্তু একজন ডিলার সময়মতো ডিও না করায় এক হাজার ৮৫৫ কেজি চাল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা বলে জানিয়েছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোসা. ফাতেমাতুজ জহরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার বলেন, বিষয়টি জানা নেই। কোনো অভিযোগ থাকলে। অবশ্যয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য