খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ২:২৬ এএম

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইসিটি বিভাগে এক প্রভাষকের নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকের স্ত্রীর নিয়োগকে ঘিরে এ বিতর্ক তৈরি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক এসব অভিযোগকে অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত বলে মনে করছেন। ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এরই অংশ হিসেবে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগে প্রভাষক পদে বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফিরোজা নাজনীনসহ কয়েকজনের নিয়োগ গত সোমবার (২৯ জুন) অনুষ্ঠিত ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগ ও একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী থাকাকালে ফিরোজা নাজনীন প্রথম বর্ষের একটি কোর্সে অকৃতকার্য হন। এছাড়া একটি কোর্সে ইমপ্রুভমেন্ট দেওয়ার পর তার একাডেমিক সনদ থেকে ‘ইমপ্রুভমেন্ট’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি শিক্ষার্থী থাকাকালে দ্বিতীয় বর্ষ থেকে একই বিভাগের শিক্ষক ও জিয়া পরিষদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ড. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ প্রেক্ষিতে নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত প্রার্থী ফিরোজা নাজনীনের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, রিটেক ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার পর তিনি স্নাতকে ৩.৫৯ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৬৪ সিজিপিএ পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। তিনি ২০২০ সাল থেকে গ্রীন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং ইঅঊঞঊ এবং ইঅঈ অ্যাক্রিডিটেশনে গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে কমিটি মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ১৬টি জার্নাল ও কনফারেন্স পেপার রয়েছে এবং গুগল স্কলারে ১০০টির বেশি সাইটেশন রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন। পাশাপাশি টিচিং লার্নিংয়ে ছয় মাসের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি ডিজিটাল প্যাথলজি বিষয়ে পিএইচডি গবেষণার জন্য জাপানের গঊঢঞ স্কলারশিপ পেয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ও মাস্টার্সের অফার পেয়েছিলেন। ইনক্লুসিভ জেনারেটিভ এআই ডাইভার্সিটি টিচিং মেথডোলজি বিষয়ে তিনি তিনটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নেন। তবে উত্থাপিত অভিযোগ অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “কোনো যোগ্য প্রার্থী কেবল কারো ভাই, বোন বা স্ত্রী হওয়ার কারণে অযোগ্য হয়ে যেতে পারে? কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বৈবাহিক জীবন থাকা কোনো অপরাধ? এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিলে তার চূড়ান্ত সনদে কখনোই ইমপ্রুভমেন্ট শব্দটি লেখা থাকার কথা নয়। এটি একাডেমিক নিয়মের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।” তিনি আরো বলেন, “যাকে নিয়ে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তিনি একজন অত্যন্ত যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী। তিনি ইতোমধ্যে ঢাকার একটি স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে তার পেশাগত দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করছেন।
এছাড়া উচ্চশিক্ষায় তিনি জাপানি সরকার থেকে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।” এ বিষয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।” এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম দুই দফা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফিরোজা নাজনীনের একাডেমিক ফলাফলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আনার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ওই শিক্ষার্থীর যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। আর নিয়োগ পেতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ইতোমধ্যে সে জাপানের গঊঢঞ স্কলারশিপ পেয়েছে।
অক্টোবর সেশনে ডিজিটাল প্যাথলজি নিয়ে পিএইচডি গবেষণার জন্য যাবে। প্রভাষক পদে একজন প্রার্থীর যে যোগ্যতা থাকা দরকার, তার চেয়ে বেশি যোগ্যতা তার আছে। বিগত আওয়ামী শাসনামলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নিয়োগ হয়নি। নতুন করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কেউ কেউ আমাদেরকে ব্যাশিং করে মানসিকভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা কখনোই কাম্য নয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘যে নিয়োগটির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে সেটি আমি যাচাই-বাছাই করে দেখব।’
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য