বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো থানায় মামলা হয়নি। এনসিপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশ মামলা নেয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত থানায় মামলার জন্য অপেক্ষা করেন এনসিপি কুষ্টিয়ার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি ও সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহাসহ দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ওসির এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি। গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে তিনি বলেন, ‘আমরা মামলার জন্য রোববার রাত ৯টা থেকে ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। ওসি ও এসপির সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। কিন্তু তারা গড়িমসি করে আমাদের মামলা নেননি।’
সোমবার অভিযোগ নিয়ে আর থানায় গিয়েছেন কি-না, জানতে চাইলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা মামলার বিষয়ে এগোব।’
জান্নাতুল ফেরদৌস টনি দাবি করেন, রাত হয়ে যাওয়ার কারণে কুমারখালীর আশপাশে দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মামলার কাগজ রেডি করতে পারছিলাম না। পরে কুমারখালী থানার ওসির সহযোগিতা চাইলে তিনি থানার কম্পিউটারে লিখে দিতে রাজি হন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের মামলার কাগজপত্র লিখে দিতে পারেননি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা থানার ভিতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা থানার আশপাশ দিয়ে ঘিরে রেখে ছিল। আমাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল। পরবর্তীতে রাত প্রায় ১টার দিকে পুলিশি পাহারায় নিরাপদে আমরা কুষ্টিয়া শহরে আসি। আমাদের ওপরে মব চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।’
এনসিপির সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ মামলা না নেওয়ার জন্য প্রথম থেকেই নানা টালবাহানা করে। প্রথমে ওসি মামলা থানা থেকে লিখে দিতে রাজি হলেও রাত ১২টার দিকে বলেন, থানা থেকে মামলা লেখা যাচ্ছে না। তিনি (ওসি) আমাদের সঙ্গে গেম খেললেন। পরে আমাদের থানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে বিএনপির নেতা-কর্মীরা।’
হামলার ঘটনার জন্য ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করে তিনি বলেন, ‘বলার কিছু নাই। ফুটেজে সবকিছুই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। কে হামলা করেছে, কারা হামলা করেছে।’
জানতে চাইলে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এনসিপির নেতা-কর্মীদের কোনো অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। থানার ভেতরে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও এনসিপির নেতা-কর্মীরা ছিলেন।’
মামলা না নেওয়ার বিষয়ে এনসিপির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘তারা মামলা লিখে নিয়ে এলে আমি মামলা নিতাম। তারা মামলা লিখে নিয়ে আসেনি। তাহলে আমি কীভাবে মামলা নেব?’
থানার কম্পিউটারে মামলা লিখে দেওয়ার বিষয়ে এনসিপির নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, ‘আমি তো ঘটনাস্থলে প্রথমে ছিলাম না। আমি বলতে পারব না কারা হামলা করেছে কীভাবে হামলা করেছে। আমি কীভাবে মামলা লিখে দেব? তারা যেহেতু জানে তারাই সবকিছু লিখে নিয়ে আসবে। আমার থানা কম্পিউটারে থানার সব কাজকর্ম হয়। সেগুলো শেষ করার পরেই তো অন্য কাজ করতে পারব। থানার কাজ না করে অন্য কাজটা আমি করতে পারব না।’
ওসি আরও বলেন, তারা আমাকে তাদের নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগছেন বলে জানালে আমি রাত ১টার পরে প্রটোকল দিয়ে তাদেরকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেখে আসি।
এদিকে সোমবার বিকেলে পুলিশের বাধার মুখে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেুরি মাঠে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করতে পারেননি দলটির নেতা-কর্মীরা। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেুরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাতে বাধা দেয় কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফকির লালন সাঁইজির আখড়াবাড়িতে ব্যক্তিগত সফরে আসেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে মাজারের প্রবেশ গেটে হামলার শিকার হন তিনি। এ হামলায় কুষ্টিয়া পৌর ছাত্রদলের নেতা সংগ্রাম হোসেন ও তার অনুসারীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রাব্বি বলেন, ‘ছাত্রদল মব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি। মাজারের ভেতরে অবস্থানকালেও গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে যান তিনি।









