গণঅধিকার কুষ্টিয়া জেলা শাখার সংবাদ সম্মেলন
নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির নেতারা। এ ঘটনায় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। একজনের পায়ে গুরুতর জখম এবং আরেকজনের নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কপাল ফেটে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও তুলেছেন তারা। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ।
লিখিত বক্তব্যে তৌকির আহমেদ বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলছিল। সমাপনী বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মুফতি আমির হামজাসহ আশপাশে থাকা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। তৌকির বলেন, আমির হামজা চাইলে অন্য রাস্তা দিয়ে তার বাড়িতে যেতে পারতেন। যেখানে তার বিরুদ্ধে সমাবেশ হচ্ছে, সেই রাস্তা দিয়ে তিনি কেন গেলেন?
তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দেওয়ার জন্যই সমাবেশের সামনে দিয়ে গিয়েছেন।বহির্বিশ্ব জামাতকে যেভাবে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করেছে তার প্রমাণ কালকে কুষ্টিয়াতে তারা প্রমাণ দিয়েছে। হামলার সময় লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ করে তৌকির বলেন, হামলাকারীরা ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে হামলা চালায়। হামলা প্রতিহত করতে গেলে গণঅধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। তিনি বলেন, আমাদের একজন নেতাকর্মীর পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। আরেকজনের নাকের হাড় ভেঙে গেছে এবং কপাল ফেটে গেছে। এ ছাড়া আরও অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আহতদের নিয়ে নেতাকর্মীরা যখন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ফার্নিচার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, টাকা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তৌকির। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মুফতি আমির হামজার দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তৌকির আহমেদ। তিনি বলেন, একজন মুফতি কীভাবে সাজিয়ে এত সুন্দর মিথ্যা কথা বলতে পারেন। আমির হামজার মেয়ের গলার চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ার জন্য তিনি চ্যালেঞ্জ জানান। তার দাবি, ঘটনার সময় আমির হামজার মেয়ে গাড়িতে ছিলেন না।
এ সময় গণঅধিকার পরিষদের খুলনা বিভাগীয় মুখ্য সমন্বয়ক শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, মুফতি আমির হামজা তার মেয়ের চেইন চুরির যে অভিযোগ করেছেন, তার বাসা ও আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। তিনি চাইলে ওই ফুটেজ দেখিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, উনি সুস্থ মস্তিষ্কে নেই। ৫ আগস্টের পর তারা একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিয়াস বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নস্যাৎ করতে যে ধরনের হামলা ও জুলুম করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হাসান, সদর উপজেলা সভাপতি রয়েল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন তুফান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এসময় কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।









