কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খোকসায় ৭’শ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় লিজ নেওয়া জমিতে দীর্ঘ ১২-১৩ বছর ধরে গড়ে তোলা কলাবাগানের প্রায় ৭০০ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষক শাজাহান। দীর্ঘদিনের শ্রম, সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা বাগান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

 

গত সোমবার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুণ্ঠগর্জা চরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

 

ভুক্তভোগী শাজাহান উপজেলার আমবাড়িয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার ইমান সর্দারের ছেলে। তিনি আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক।

 

শাজাহানের অভিযোগ, জমির মালিক আকমল হোসেনের কাছ থেকে লিজ নিয়ে তিনি প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছিলেন কলাবাগান। তাঁর দাবি, লিজের মেয়াদ শেষ হতে তখনো তিন মাস বাকি ছিল। এর মধ্যেই জমির মালিক বেশি টাকা পাওয়ার আশায় অন্য ব্যক্তির কাছে জমিটি লিজ দেন। এ বিরোধের জেরেই কলাগাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

 

শাজাহান বলেন, “১২-১৩ বছর ধরে এই জমিতে চাষাবাদ করছি। অনেক পরিশ্রম করে কলাবাগানটি গড়ে তুলেছি। এখনো লিজের মেয়াদ তিন মাস বাকি। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জমিটি অন্যজনকে দেওয়া হয়েছে। এতে আমার এত দিনের পরিশ্রম শেষ হয়ে গেল। প্রায় ৭০০ কলাগাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে আমার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

 

ভুক্তভোগী কৃষক অভিযোগ করেন, জমির মালিক আকমল হোসেনের নির্দেশে মোতাহার, তাঁর ছেলে সজীবসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন কলাগাছগুলো কেটে ফেলেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

 

অন্যদিকে, জমির মালিক আকমল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “লিজ শেষ হয়ে গেছে। তিনি টাকা ঠিকমতো দেন না। সে কারণে অন্যজনকে লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে কলাগাছ আমি কাটিনি বা আমার নির্দেশে কাটা হয়নি। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

 

দীর্ঘদিনের শ্রম ও বিনিয়োগে গড়ে তোলা বাগান হারিয়ে হতাশায় পড়েছেন শাজাহান। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কলাগাছ কেটে ফেলায় প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

 

কৃষিনির্ভর পরিবারের কাছে এ ধরনের ক্ষতি শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক লোকসান নয়; ভবিষ্যৎ আয় ও জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। জমির লিজের মেয়াদ, চুক্তির শর্ত এবং গাছ কাটার ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর