মোশারফ হোসেন ॥ শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তসংলগ্ন পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দিন-রাত বিশেষ টহল, মোবাইল টহল ও স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ২ নম্বর মথুরাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মথুরাপুর দাসপাড়া শ্রী শ্রী জগৎ জননী দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি।
পরিদর্শনকালে তিনি মন্দিরের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এ সময় মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শারদীয় শুভেচ্ছা হিসেবে মিষ্টি বিতরণ করেন বিজিবি অধিনায়ক।
এ সময় মথুরাপুর দাসপাড়া দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিজয় কুমার দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব মণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবির বিশেষ টহল দল ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিমা বিসর্জন ও বিসর্জন-পরবর্তী শোভাযাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি, চেকপোস্ট এবং মোবাইল টহল অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি জানান, বিজিবি শুধু সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, স্থানীয় মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং সব ধর্মের মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দর্শনার্থী ও ভক্তরা যাতে নির্ভয়ে আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।
বিজিবির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও মন্দির পরিদর্শনের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা দুর্গোৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবির সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজিবির এ উদ্যোগ সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ।









