খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বসোয়া গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক মাদ্রাসাছাত্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে তার বাবা, যিনি গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার), নিজেই থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন বলে জানিয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বসোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প
রে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা-মা বাড়ির পাশের বিলে পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শিশুটি দাদা-দাদির সঙ্গে বাড়িতে ছিল। পরে সে বাড়ির পাশের রাস্তায় অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়। এ সময় প্রতিবেশী গ্রাম পুলিশ এরশাদ আলীর ছেলে, মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সৈকত আলী, তাকে বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, পরে একটি খড়ের জমিতে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে মায়ের কাছে গিয়ে ঘটনার কথা জানায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির দাদি রাহেলা খাতুন বলেন, “আমার ছেলে ও পুত্রবধূ বিলে পাট ধোয়ার কাজে ছিলেন। নাতনি খেলতে বের হলে সৈকত তাকে বাবা-মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। পরে একটি খেতের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর চিপস ও লজেন্স কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু নাতনি মায়ের কাছে এসে সব খুলে বলে।” অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করায় তার বাবা-মায়ের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্তের বাবা গ্রাম পুলিশ এরশাদ আলী বলেন, “বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনার কথা জানার পর ছেলেকে খুঁজতে শুরু করি। সে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে পাংশা এলাকায় তার নানির বাড়ি থেকে তাকে ধরে এনে থানার ওসির কাছে সোপর্দ করেছি। ছেলে অপরাধ করেছে বলে আমি মনে করি। আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক।”
শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন এবং শিশুটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পুলিশও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। খোকসা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজু বলেন, “ঘটনাস্থল পাংশা থানার আওতাভুক্ত। আমরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে এসেছিলাম। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পাংশা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।” এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









