বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো আধুনিক সুবিধা সংবলিত ডেডিকেটেড নিউরোসার্জিক্যাল অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সার্ভিস ও ২৪ ঘণ্টার ইমার্জেন্সি সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) একটি জটিল র্সার্ভিকাল সার্জারির মাধ্যমে বিভাগটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান এ অপারেশনে অংশ নেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীর এবং উপ-পরিচালক ডা. আকুল উদ্দিন। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্রেইন, স্পাইন ও স্নায়ু সংক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নতুন এই বিভাগটিকে আধুনিক সব নিউরোসার্জিক্যাল চিকিৎসা যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। এখানে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক নিউরোসার্জিক্যাল অপারেটিং মাইক্রোস্কোপ, নেভিগেশন সিস্টেম, ক্যাভিটেমিট্রন আল্ট্রাসনিক সার্জিক্যাল অ্যাসপিরেটর (কুজা), এন্ডোস্কোপিক সেট এবং ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি সুবিধার জন্য নির্ধারিত দুটি অপারেশন থিয়েটার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান জানান, আধুনিক এই সুবিধা চালুর ফলে কুষ্টিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আশঙ্কাজনক ব্রেইন টিউমার, মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের আর গণহারে ঢাকায় রেফার করার প্রয়োজন হবে না। স্থানীয় পর্যায় থেকেই রোগীরা এখন বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন। এখানে দুইজন নিউরোসার্জন সার্বক্ষণিক সেবা দিবেন। এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু ও পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে স্থানীয় জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি হাসপাতালে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। হাসপাতারের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর কারণে এখানকার নার্সরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। ৪০-৫০ শয্যার একেকটি ওটিতে ২ জন মাত্র নার্স; তারা পেরে উঠছে না। এ সংকট কাটাতে মাগুরা থেকে ২০ থেকে ৩০ জন নার্সকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে আরও লোকবল এখানে যুক্ত করা হবে বলেও জানান ডা. জাহিদ রায়হান।









