কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া পৌর বাজারে এ সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ইলিশ মাছ, ডিম ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে। অন্যদিকে চাল, গরুর মাংস, ব্রয়লার মুরগি, পেঁয়াজ, রসুন ও ভোজ্যতেলের বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই। তবে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কাঁচামরিচসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়া পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল স্বাভাবিক।

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে মাংসের বাজারে তুলনামূলকভাবে ভিড় কিছুটা কম দেখা গেছে। বাজারে সবজি কিনতে আসা অধিকাংশ ক্রেতার অভিযোগ, কিছু পণ্যের দাম কমলেও সার্বিকভাবে নিত্যপণ্যের ব্যয় এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটল ৩০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, উস্তে ৪০ টাকা, কচু ৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে সবজির বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি হলে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, ফলে কাঁচামরিচসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী আলম আলী বলেন, “সবজির দাম উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বৃষ্টির কারণে কিছু পণ্যের দাম কমবেশি হচ্ছে। আমরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াই না।”

চালের বাজারে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা, বাসমতি চাল ৮৫ টাকা, কাজল লতা ৬৫ টাকা এবং মোটা আঠাশ চাল ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পৌর বাজারের মেসার্স মা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এ. এম. হক রিপন বলেন, “কয়েক সপ্তাহ আগে চালের দাম কিছুটা কমেছে। এরপর আর বাড়েনি। ধান উৎপাদন ও বাজার সরবরাহ ঠিক থাকলে চালের দাম স্থিতিশীল থাকবে।” বাজারে সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরিষার তেল ২৩০ টাকায়। দুই তেলের দামই স্থিতিশীল রয়েছে। রসুন প্রতি কেজি ১২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৩০০ টাকায় উঠেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ টাকা।

গরুর মাংস বিক্রেতা আশরাফ আলী বলেন, “গরুর মাংসের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।” খাসির মাংস বিক্রেতা রাজিব হোসেন বলেন, “বাজারে পশুর সরবরাহ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ হয়। বর্তমানে দাম স্থিতিশীল।” মাংস ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, “গরুর মাংসের দাম যদি আরও কিছুটা কমতো, তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অনেক সুবিধা হতো। এখন বাধ্য হয়ে কম পরিমাণে কিনতে হয়। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।” রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা এবং কাতলা ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ইলিশ মাছের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ছোট মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রেতা আব্বাস মণ্ডল বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইলিশের সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়েছে।”

মাছ বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, “রুই ও কাতলাসহ অন্যান্য মাছের বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে।” অপর মাছ বিক্রেতা আশরাফ আলী জানান, “বৃষ্টির কারণে নদীর মাছের সরবরাহে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। ফলে কিছু মাছের দাম বাড়ছে, আবার কিছু মাছের দাম কমছে।” ডিমের বাজারে প্রতি খাঁচা ডিম ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৭০ টাকা। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় আরও বেড়েছে। কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা লিয়াকত আলী বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। অনেক পণ্য এখন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজার স্বাভাবিক হওয়া দরকার।”

আরেক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ীরা কখনো আমদানির অজুহাত, কখনো উৎপাদনের কথা বলে দাম বাড়ায় বা কমায়। সাধারণ মানুষ অসহায়। আমরা চাই সরকার বাজারে নিয়মিত তদারকি করুক।” বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এ সপ্তাহে কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, ডিম ও মুরগির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রভাব রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইলিশ মাছ সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। ব্যবসায়ীরা আবহাওয়া ও সরবরাহ পরিস্থিতিকে দায়ী করলেও ক্রেতাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত মনিটরিং এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি। তাহলেই সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।