কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় সাব-কন্ট্রাক্টিং সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ শিল্প কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক সেমিনার-২০২৬ জেলা বিসিক কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, ঢাকা বিসিকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিনহাজউল হক, খুলনা বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক বাদল চন্দ্র হালদার, ঢাকা বিসিকের পরিচালক সহিদুজ্জামান।

এছাড়া কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধানসহ জেলার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, উদ্যোক্তা, পরিবেশবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে বিসিকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প কারখানা থেকে নির্গত কঠিন, তরল ও বায়বীয় বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি আরো বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিল্প খাতকে পরিবেশগত দায়বদ্ধতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি নীতিমালা ও আইন মেনে চলার পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

এসময় সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা শিল্প খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাব-কন্ট্রাক্টিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়। এছাড়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান বলেন, কুষ্টিয়ার খাজানগর দেশের অন্যতম বৃহৎ চাল উৎপাদন কেন্দ্র। এ অঞ্চলের শতাধিক আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় চালকলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ধান প্রক্রিয়াজাত করা হয়। চাল উৎপাদনের পাশাপাশি এসব মিল থেকে রাইস ব্র্যান, কুঁড়া, তুষ, ভাঙা চাল, খুদ, ধানের ছাই এবং অন্যান্য উপপণ্য উৎপন্ন হয়, যা দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, রাইস ব্র্যান থেকে উচ্চমানের রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন করা হয়, যা ভোজ্যতেল শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ তেল পরিশোধনের পর উৎপন্ন বিভিন্ন উপাদান সাবান, গ্লিসারিন, কসমেটিকস এবং অন্যান্য শিল্পপণ্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ধানের তুষ বিদ্যুৎ উৎপাদন, বয়লার পরিচালনা এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে চালকলগুলোতে তুষ পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ ছাই উৎপন্ন হয়, যার একটি বড় অংশ খোলা স্থানে পড়ে থাকে অথবা বাতাসে উড়ে আশপাশের পরিবেশ দূষণ করে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তির শিকার হন এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তিনি এ ছাইকে শিল্পের উপযোগী সম্পদে রূপান্তরের জন্য গবেষণা ও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। জয়নাল আবেদীন প্রধান বলেন, ধানের তুষের ছাই সিমেন্ট, ইট, ব্লক, কংক্রিট, সিরামিকস ও নির্মাণসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।

এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি খাজানগর শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে উৎপাদনের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত কম্প্লায়েন্সের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে শিল্পখাতও আরও লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এদিকে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিল্প খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং টেকসই শিল্পায়নের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর