খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুন ২০২৬, ২:১১ এএম

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কাতার প্রবাসীর স্ত্রী, তাঁর মা এবং শাশুড়িকে হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের ঘর থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয় হামলাকারীরা। গতকাল শুক্রবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের তাঁতিবন্দন গ্রামে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন- প্রবাসী সাজ্জাদের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৩০), তাঁর মা আছেফা খাতুন (৫০) এবং প্রবাসীর মা (শাশুড়ি)। বর্তমানে আহত তিনজনেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং মিরপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বারুইপাড়া ইউনিয়নের তাঁতিবন্দন গ্রামের কাতার প্রবাসী সাজ্জাদের স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করাসহ অনৈতিক কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল একই এলাকার আশাদুল মণ্ডলের ছেলে এবং প্রবাসীর চাচাতো দেবর নাইম (৩২)। রাবেয়া খাতুন এতে সাড়া না দিয়ে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাইম ও তার পরিবার রাবেয়ার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিল। গতকাল দুপুরে রাবেয়া খাতুনের মা আছেফা খাতুন মেয়েকে দেওয়ার জন্য নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে আসেন। দুপুরে মা-মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা খাবার খাওয়া অবস্থায় নাইম, তার বাবা আশাদুল মণ্ডল, মা নাসিমা, আসমা এবং পুত্রবধূ সোহানাসহ একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা ও হাতুড়ি নিয়ে আকস্মিক ঘরের ভেতর ঢুকে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা হাতুড়ি ও লাঠির আঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন এবং তাঁর মা আছেফা খাতুনের মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ সময় পুত্রবধূকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে প্রবাসীর বৃদ্ধা মাকেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
একপর্যায়ে ঘরে থাকা নগদ এক লাখ টাকা এবং দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুটে নেয় হামলাকারীরা। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের স্বজনরা জানান, বখাটে নাইম ও তার বাবা আশাদুল মণ্ডল প্রভাবশালী হওয়ায় এই অসহায় প্রবাসী পরিবারটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। আজ তারা পরিকল্পিতভাবে এই খুনের উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে পুরো পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে মিরপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য