কুষ্টিয়ায় উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে হত্যাসহ সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে হত্যাসহ সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫

নিজ সংবাদ ॥ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর সারা দেশের মতো কুষ্টিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভেঙে পড়েছে। উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে হত্যাসহ সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। ফলে এ জেলার মানুষ চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দিন পার করছে।গত জানুয়ারিতেই পরিত্যক্ত অবস্থায় কুষ্টিয়াতে ৪টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফেব্রুয়ারিতে ৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সর্বশেষ গত শনিবার ভেড়ামারার পদ্মারচর থেকে একজন মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়। গত পাঁচ মাসে কুষ্টিয়ায় অন্তত ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এরমধ্যে দৌলতপুরে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, একই এলাকায় আপন দুই ভাই ও এক জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে খুন, এবং পদ্মায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার হত্যার ঘটনা বেশ আলোচিত। শুধু হত্যার মাধ্যমে থেমে নেই অপরাধ কর্মকাণ্ড, দৌলতপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে এক তরুণকে হত্যার ঘটনার জের ধরে চলতি মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া পদ্মার চরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতিপক্ষের ৪৬টি মহিষ লুট করা হয়।

কুমারখালীতে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ২২টি দোকানসহ মার্কেট দখল করেন উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, ভুক্তভোগী তার মার্কেট উদ্ধারে প্রশাসনের সর্ব মহলে দৌড়ঝাঁপ করেও তাদের কাছ কোনো সহযোগিতা পাননি, মার্কেটের মাসিক ভাড়া প্রায় ৭০ হাজার টাকা তুলছেন দখলদার হান্নান। ছাড়াও একাধিক মার্কেট, দোকান, অফিস, ফাঁকা জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে অহরহ। এদিকে দিনদুপুরে চলছে অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি, গত ২রা ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস প্রাঙ্গণে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা সীমানা প্রাচীরের পেছনে গড়াই নদীর দিক থেকে এসে গুলি করে আবার ওইদিক দিয়েই পালিয়ে যায়।এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের ওপর অধিপত্য বিস্তার করতে একটি মহল এমন কাজ চালিয়েছে। ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কয়া গড়াই নদের বালুঘাটে ১০ থেকে ১২ জনের একদল অস্ত্রধারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, সে সময় অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ওই ঘাটের ঠিকাদারের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার সবুজ আলী (৪২) গুলিবিদ্ধ হয়। সে সময় বালুঘাটের প্রায় ২ লাখ টাকা নিয়ে যায় সন্ত্রাসী দল।সব থেকে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সীমান্ত এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের মতো ঘটনা।

রাত ১১টার দিকে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা হানিফসহ তিনজনকে হত্যার পর হত্যার দায় স্বীকার করে গণমাধ্যমকর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠায় চরমপন্থি সংগঠন জাসদ গণবাহিনী চরমপন্থি নেতা কালু।এমন ভয়াবহ অবস্থায় কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষসহ সরকারি অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবখানে আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার সঙ্গে দিন পার করতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতারও অভিযোগ রয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য মিজানুর রহমান লাকি বলেন, পুলিশের মাঝে এখনো উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, জনগণের নিরাপত্তায় তাদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। ৫ ই আগস্ট এর ঘটনায় অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, যার কারনে তারা নিজেদের গুটিয়ে রাখছেন, এজন্যই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত অধঃপতন। পুলিশ প্রশাসন যদি সচেতন হয়, তাহলে অপরাধপ্রবণতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ অবস্থায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া কোনো ভাবেই মানুষ নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছেন সচেতন সমাজ।অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ (প্রশাসন ও অর্থ) বলেন, আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি, বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং জননিরাপত্তায় আমরা সর্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি।