খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ২:১১ এএম

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ঘড়ির কাঁটায় ৩টা বেজে ৩৪ মিনিট। কার্যালয়ের প্রবেশপথের গেটে ভিতর থেকে খিল লাগিয়ে দাপ্তরিক কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর কার্যালয়ের বাইরে তখনও ১৫ থেকে ২০ জন নানাবয়সি নারী-পুরুষ বসে ও দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই হাতেই একটি করে ডকুমেন্টারি ফাইল। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে সরেজমিন এচিত্র দেখা যায়।
তাঁদের কেউ ফ্যামেলি কার্ড শুমারি ২০২৬ এর শুমারিকালীন তথ্য সংগ্রহকারী, আবার কেউ সুপারভাইজার স্বেচ্ছাসেবী পদে আবেদনকারী বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, গতকাল দুপুর ১২টার কিছুক্ষণ আগে কিছু লোকজন আবেদনপত্র জমা দিতে এসে হট্টগোল করে। কার্যালয়ের বারান্দার লোহার গ্রিল ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে। এতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হলে পুলিশ ও আনসার এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
কিন্তু বিশৃঙ্খলার কারণে নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টা পার হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ আর আবেদন জমা নেয়নি। তাঁরা এখনও আবেদন জমা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। এ সময় তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনকারী মিনা খাতুন বলেন, ‘আমরা ১২টার মধ্যেই আসছি। কিন্তু এখানে অনেক বিশৃঙ্খলা হয়ছে। গ্রিল ভাঙছে। সেজন্য এখন আর আবেদন জমা নিচ্ছেনা। আমাদের সাথে অন্যায় হচ্ছে। প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টা ধরে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি।’
তিনি উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের দমদমা এলাকার বাসিন্দা। পান্টি ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের আবু সায়েমের স্ত্রী সাবিহা খাতুন বলেন, ‘ স্বামী টিউশনি করে। দুইটা মেয়ে। মাস্টার্স পাশ করে গৃহিণী হয়ে বসে আছি। শুমারির কাজটা পেলে কিছুটা তো আয় বাড়তো সংসারে। কিন্তু ১২টা বেজে যাওয়ায় আবেদন জমা নিচ্ছেনা। দরজায় খিল লাগিয়েছে।’ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী সেতু খাতুন। তিনি পান্টির সান্দিয়ারা গ্রামের শাহিনের স্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ ১০টার দিকে খবর পাইছি। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আসতে দেরি হয়ছে। কাগজ সত্যায়িত করতে আরো বেশি সময় লেগেছে। এখন আসে শুনতিছি মারামারি হয়ছে। আর আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছেনা। দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যায়ের সামনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। বকুলতলায় বেশিকিছু আবেদনকারী ও স্বজনরা ডকুমেন্টারি ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে বসে আছেন।
এ সময় পৌরসভার তেবাড়িয়া এলাকার শান্ত হোসেন বলেন, ‘ সরকারি নিয়ম ১২টা মানলাম। কিন্তু যেকজন উপস্থিত ছিল। তাদের আবেদন জমা নেওয়ার দরকার ছিল। এটা আমাদের সাথে অন্যায় করা হয়েছে। ‘ তাঁর ভাষ্য, আরো ৫০ – ৬০ জমা দিতে না পেরে চলে গেছে। সরকারি কোনো স্বেচ্ছাসেবী কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ফ্যামেলি কার্ড শুমারিতে আবেদন করেছেন প্রান্ত আহমেদ। তিনি ২০২৫ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (মার্কেটিং) সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, আবেদন জমার শেষ সময়ে কিছু ছেলেপিলে বিশৃঙ্খলা করেছেন।
সেই থেকে আবেদন জমা বন্ধ রয়েছে। অনেকেই এখনও আবেদন জমার জন্য বসে আছেন। তথ্য সংগ্রহকারী ১৩৭ জনের বিপরীতে এক হাজার ৩৭৮টি এবং সুপারভাইজার পদে ১৩ জনের বিপরীতে ২১৩টি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামেলি কার্ড শুমারির সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পর অনেকেই আবেদন জমা দিতে না পেরে সাময়িক একটা জটলা বাঁধিয়েছিল। তবে বিশৃঙ্খলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য