খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ২:১৪ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের টেন্ডার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আব্দুল লতিফ সেখের বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার পাঁয়তারা, ঘুষ বাণিজ্য এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক অংশগ্রহণকারী দরদাতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীন সরকারি শিশু পরিবার (বালক ও বালিকা), সুরক্ষা কেন্দ্র এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানের জন্য খাদ্যসামগ্রী, শিক্ষা উপকরণ, মনোহরি সামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের সরবরাহের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৭ জুন নির্ধারিত সময়ে দরপত্র গ্রহণ ও খোলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এবং একাধিক প্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করে।
কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, দরপত্র খোলার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে এখনো কার্যাদেশ প্রদান করা হয়নি। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ (আর্নেস্ট মানি) ফেরত না দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিধি অনুযায়ী টেন্ডার নিষ্পত্তির পরও অযৌক্তিকভাবে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, সরকারি শিশু পরিবার (বালক) ডায়েট শাখার একটি টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অজুহাতে অযোগ্য দেখিয়ে অন্য একটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার পেছনে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তুলেছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর ভাষ্য, সমাজসেবা কার্যালয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে এবং বৈধ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা চলছে। এসব অভিযোগের কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুল লতিফ সেখ। তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়েই টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন দরদাতা হলেই কাজ পাওয়া যায় না। টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সব শর্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট দরদাতা প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে দাখিল করতে না পারায় মূল্যায়ন কমিটি তাকে নন-রেসপন্সিভ ঘোষণা করেছে। পরে যোগ্য (রেসপন্সিভ) দরদাতাদের মধ্য থেকে সর্বনিম্ন দরদাতাকেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
টেন্ডার শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পরও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জামানতের অর্থ ফেরত না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের আর্নেস্ট মানির টাকা ফেরত দেওয়া হবে।”
এদিকে অভিযোগকারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তারা বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য