কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ “আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেবনা ভুলিতে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উদযাপিত হলো নজরুল বর্ষ। গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমারখালী মিলনায়তন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যালয়ে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়। কুমারখালী মিলনাগার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক কাজী সাইফুল। আলোচকরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও সাহিত্যকর্মের নানা দিক তুলে ধরেন। বক্তব্য রাখেন কুমারখালী তাঁতবোর্ডের উপমহাব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী মাহমুদ হোসেন মানু, সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কবি আব্দুর রহমান, কুমারখালী পাথরবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, কবি ও নাট্যকর লিটন আব্বাস সহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার কবি। সাহিত্যের স্বর্ণযুগের অন্যতম গুণী ও মেধাবী কবি হয়েও বাংলাদেশে তিনি অবহেলিত। কবি ও নাট্যকর লিটন আব্বাস বলেন, নজরুল শুধু কবিতা লেখেননি, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। অথচ তাকে নিয়ে আমাদের চর্চা খুবই কম। সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কবি আব্দুর রহমান বলেন, পাঠ্যপুস্তকে নজরুল আছেন, কিন্তু তার দর্শন নিয়ে কাজ হচ্ছে না। নতুন প্রজন্মকে নজরুল পড়াতে হবে। নজরুল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাকে জানতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী মাহমুদ হোসেন মানু বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে নজরুলের গান আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছে। তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। কুমারখালী মিলনাগার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সাধারণ সম্পাদক বলেন, “অনেক দেরিতে হলেও সরকার নজরুল বর্ষের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সাধুবাদ জানাই।” কুমারখালী তাঁতবোর্ডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মেহেদী হাসান বলেন, “নজরুলের সাহিত্য শ্রমজীবী মানুষের কথা বলে। তাকে জনপ্রিয় করতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও গবেষণাগার স্থাপন হওয়া দরকার। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে এবং নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে সারাদেশে নজরুল বিষয়ক গবেষণাগার স্থাপনের দাবি জানান তিনি।









