বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিপিএম (বার)।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ সেখ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনজুরুল করিম, সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ হেলালউজ্জামান, জেল সুপার মোহাম্মদ শরিফুল আলম, জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের জেলা কমান্ড্যান্ট হোসনে আরা হাসি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। এছাড়াও সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
এসময় জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান অপরাধ দমন ও মাদক প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহবান জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি। মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাই এর বিস্তার রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন। মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানই যথেষ্ট নয় তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।
জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। অপরাধ, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। আমরা চাই, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হোক। সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ভুমিকা রাখতে হবে। শান্তিপূর্ন সমাজ গড়তে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।
এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, মাদক আমাদের যুবসমাজ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, সীমান্ত ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করতে হবে। কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন যেন না ঘটে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বঘ্নে যাতে চলতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর থাকতে হবে।









