কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের

ইবির পরিবহন খাতে বিপুল ব্যয়

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন দপ্তরের মাসিক ব্যয় প্রায় কোটি টাকা। সে হিসাবে বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু পরিবহন সেবা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে ছোট-বড় ৪৬টি বাস রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত চলাচল করে ৪৩টি বাস। মেরামতের জন্য তিনটি বাস গ্যারেজে রয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন প্রশাসন দিনে ট্রিপ হিসেবে ৩২টি বাস ভাড়া করে চালায়। ভাড়া বাসে কুষ্টিয়া রুটে প্রতিবার যাতায়াতে ২ হাজার ১৫০ টাকা ও ঝিনাইদহ রুটে দিতে হয় ২ হাজার ৬৫০ টাকা। ভাড়া বাসের ভাড়া, ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাসের জ্বালানি ও মেরামত খরচ বাবদ পরিবহন দপ্তরের বার্ষিক ব্যয় ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে পরিবহন দপ্তরের ব্যয় ছিল ১১ কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার ৫৮৩ টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে পরিবহন দপ্তরের ব্যয় ৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৮ হাজার ২৩৩ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত পরিবহন সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন রুটে শিক্ষার্থীর তুলনায় বাসের ট্রিপ কম থাকা, ফিটনেসবিহীন ভাড়া বাস ব্যবহার ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাসের চালক ও সহকারীদের অসদাচরণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এদিকে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি পরিবহন। তাতে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তুলনামূলকভাবে ভালো বাসগুলো শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবং ফিটনেসবিহীন ভাড়া বাসগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফিটনেসবিহীন বাসগুলো যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরের দূরত্ব যথাক্রমে ২৪ ও ২২ কিলোমিটার হওয়ায় যাতায়াতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এসব ফিটনেসবিহীন বাসে প্রতিদিন চলাচল করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাসগুলোর বসার সিট ও গ্লাস ভাঙাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাজিদুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, নিজস্ব বাসে চলাচলে কোনো ঝামেলা হয় না। কিন্তু ভাড়ায় চালিত বাসগুলোর চালক ও তাঁর সহকারীরা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পথে থামিয়ে বাইরের যাত্রী ওঠান। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের রেখে চলে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পরিবহন খাতটা ঢেলে সাজানোর জন্য বড় বাজেট দরকার। সরকার যদি কখনো বড় বাজেট দেয়, তাহলে সব সমস্যা মেটানো যাবে। ভাড়ায় চালিত বাসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যেকোনো অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিই।

Tags :

Desk Reporter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর