কুমারখালীর অবৈধ গড়াই ইটভাটায় প্রকাশে চলছে কাঠ পোড়ানোর উৎসব - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীর অবৈধ গড়াই ইটভাটায় প্রকাশে চলছে কাঠ পোড়ানোর উৎসব

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ২২, ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালী চাপড়া ইউনিয়নের গড়াই  ইটভাটা দিন রাত ধরে অবাধে চলছে কাঠ পড়াশোনা উৎসব। কাঠ পোড়াতে ইট ভাটার ভিতরেই স্থাপন করা হয়েছে কাঠ কাটার করাত কল। দিন-রাত সব সময় বড় বড় ট্রাক ভর্তি করে জেলার বিভন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা হয় কাঠ। আর সেই কাঠ করাত কল দিয়ে কেটে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে ইট। যার ফলে আশে পাশের পরিবেশ এবং জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ এই অনিয়ম দেখার কেউ নেই। কি কারণে প্রশাসন নিরব সেই প্রশ্নও ঘোরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ইট পোড়ানোর লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের সার্টিফিকেট ছাড়াই ইটভাটার মালিক আব্দুল মজিদ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মানছে না ইট পোড়ানোর সঠিক বিধিমালা। ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত আইন ২০১৩-এর ৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে কাঠ ব্যবহার করেন, তাহলে ওই ব্যক্তি তিন বছরের কারাদন্ড অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। সরজমিনে দেখা গেছে,  এই ইটভাটায়  ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়াচ্ছে। ভাটার আশপাশে কাঠ স্তুপ করে রাখা হয়েছে। ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে ফসলের। হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র। এদিকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, ইটভাটার মাটি সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই এ উপজেলায় গত কয়েক বছর ধরে প্রতি মৌসুমে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাটার মালিকরা। জানা যায়, এই ইটভাটায় ২০১৩ সালের পর থেকে কোন অনুমোদন ছাড়াই চলছে এই ইটের ভাটাটি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন কোন অনুমোদন ছাড়া উপজেলা জুড়ে প্রতি বছর ইটের ভাটা বাড়ছে এতে করে প্রতিনিয়ত প্রতিবেশ বায়ুদূষণ হচ্ছে। এই ধরনের ইট ভাটা গুলো অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। গড়াই ইটভাটা মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, শুধু আমি না উপজেলার সব সম্ভব ইটভাটায় কাঠ পুড়ানো হয় । কেউ কিছু বলে না। ২০১৩ এর পর থেকে কোন অনুমোদন নেই আমার এই ভাটায় এই ভাবে চলছে ভাটা। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিরুল আরাফাত বলেন, যে সকল ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের বাসার জানান, কুমারখালী উপজেলাতে একটি অভিযান পরিচালিত হবে। এই বিষয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলে প্রযোজনীয় ব্যবস্তা নেওয়া হবে।