কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন, মামলা না নিলে কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ায় ‘দৈনিক খবরওয়ালা’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও কুৎসা রটনাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। এর প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের সাংবাদিকরা। সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে এই এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করা হলে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধনমামলা না নিলে কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা
কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন
মামলা না নিলে কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ:

প্রতিবাদী এই মানববন্ধনে অংশ নেন কুষ্টিয়ার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল, দীপ্ত টিভির কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবেশ চন্দ্র সরকার, দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. আরাফাত হোসেন, দৈনিক সময়ের কাগজ পত্রিকার সহ-সম্পাদক শাহরিয়া ইমন রুবেল ও বার্তা সম্পাদক অঞ্জন শুভ, একই পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সোহেল টানু।
এছাড়াও মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জনবাণী পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়, দৈনিক বর্তমান পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আমিন হাসান, দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. নাব্বির আল নাফিস, জিলাইভ ২৪ ডট কমের কুমারখালী প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন, দৈনিক খবরওয়ালার ভেড়ামারা প্রতিনিধি জহিরুল কবির নবীন এবং জিলাইভ ২৪ ডট কমের ভেড়ামারা প্রতিনিধি রঞ্জু রহমানসহ কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের সংবাদকর্মীরা।

ঘটনার সূত্রপাত ও নেপথ্য কারণ:

সাংবাদিকরা জানান, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (৯ ডিসেম্বর) কুষ্টিয়ার জনপ্রিয় পত্রিকা ‘দৈনিক খবরওয়ালা’য় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল “কুষ্টিয়া-৪ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জ ও তার স্ত্রীর সম্পদ ফুলে ফেঁপে উঠেছে”। বস্তুনিষ্ঠ এই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই একটি মহলের গাত্রদাহ শুরু হয়। এরই জেরে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার স্বনামধন্য প্রকাশক ও সম্পাদক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের নামে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুৎসা রটনার জন্য পোস্ট দেয় তিন যুবক।

এজাহার দায়ের ও অভিযুক্তদের পরিচয়:

এ জঘন্য অপপ্রচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ওই তিনজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার জমা দেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল শনিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক তিনটার দিকে শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়স্থ ১৫/১ আর.এ খান রোডে অবস্থিত পত্রিকার কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিনি দেখতে পান, Monoar Molla Dip (মনোয়ার মোল্লা দ্বীপ), Nazmul AH (নাজমুল এএইচ) ও Shakibul Hasan Gaffar (সাকিবুল হাসান গাফফার) নামের তিনটি ফেসবুক আইডি থেকে দৈনিক খবরওয়ালার প্রকাশক ও সম্পাদকের নামে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে চরম মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে চরম হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাজমুল এএইচ কুমারখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, মনোয়ার মোল্লা দ্বীপ খোকসা উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক এবং সাকিবুল হাসান গাফফার কুমারখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়রা আরও জানান, অভিযুক্ত এই তিনজনই কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
এজাহারে মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল উল্লেখ করেন, তাঁর পত্রিকার প্রকাশক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর দেশের একজন স্বনামধন্য তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক, কারিগরি শিক্ষা উদ্যোক্তা, বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং বহু বিক্রিত বইয়ের লেখক। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষ হতে একজন সার্টিফায়েড প্রফেশনাল ও অডিটর।
দেশে ও বিদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে তিনি দীর্ঘদিন সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছেন। অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং পেশাজীবী তৈরির সামাজিক উদ্যোগের কারণে তিনি সামাজিকভাবে ব্যাপকভাবে সুপরিচিত। একইসঙ্গে তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বাপেক্স’ (BAPEX)-এর সম্মানিত পরিচালক এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরিচিত মুখ এবং দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির “রোড টু স্মার্ট বাংলাদেশ” উদ্যোগের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এজাহারে বলা হয়, উল্লিখিত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এহেন একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বের সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার হীন উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা ও বানোয়াট কুৎসা রটনা করেছে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে তিনি এর সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করেছেন।
কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন মামলা না নিলে কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা

সাংবাদিক নেতাদের তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর হুঁশিয়ারি:

মানববন্ধনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল বলেন, “পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হবে—এটাই স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বাভাবিক নিয়ম। সেই সংবাদের বিষয়ে যে কারও দ্বিমত থাকতে পারে। যদি কেউ মনে করেন ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, তবে তিনি ইচ্ছা করলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই পারেন। কারণ, সেই আইনি অধিকার সবারই রয়েছে। কিন্তু তার প্রতিবাদ হিসেবে কোনো পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা কুৎসা রটনা করা একটি জঘন্যতম সাইবার অপরাধ এবং সম্পূর্ণ আইনবিরোধী কাজ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই থানায় এজাহার জমা দিয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, থানা আমাদের দেওয়া এজাহারটি এখনও মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। তাই বাধ্য হয়ে আজ আমরা রাজপথে নেমে মানববন্ধন করছি। আমাদের জমা দেওয়া এজাহার অবিলম্বে মামলা হিসেবে গ্রহণ না করা হলে, আগামীতে কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
দীপ্ত টেলিভিশনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবেশ চন্দ্র সরকার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আজ অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমাদের থানার সামনে দাঁড়াতে হলো। আমাদের সহকর্মীদের সাথে প্রতিনিয়তই এমন বৈরী আচরণ করা হচ্ছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এখন পর্যন্ত এমন কোনো নিরাপদ সময় এলো না, যখন আমরা নির্ভয়ে কাজ করে নিরাপদে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারি। আগে আমরা কেবল মাদক ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসীদের হুমকির শিকার হতাম, মারধর বা গালাগালির শিকার হতাম। কিন্তু আজ পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে পাতি নেতারাও যখন-তখন সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের স্বীকৃত চতুর্থ স্তম্ভ। এভাবে চলতে থাকলে সাংবাদিক সমাজ আর চুপ করে বসে থাকবে না।”
বক্তব্যের শেষে তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, “যারা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে, প্রশাসনকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর