খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৩:১২ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইজিবাইকের সিট আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সাজ্জাদের দিকে। তবে অভিযোগের টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। ভুক্তভোগী ইজিবাইক চালক সুনাতন জানান, গত ২৫ জুন দুপুরে কুষ্টিয়া ট্রাফিক অফিসের সামনে দিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় তার ইজিবাইকের চাকা অসাবধানতাবশত টিআই সাজ্জাদের পায়ে স্পর্শ করে।
এ ঘটনায় তার ইজিবাইকটি আটক করা হয়। তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করলেও টিআই সাজ্জাদ ক্ষুব্ধ আচরণ করেন এবং ইজিবাইকের চাবি নিতে গেলে চালক আপত্তি জানালে গাড়ির সিট খুলে রেখে দেন। সুনাতনের দাবি, দীর্ঘ সময় গাড়িটি আটক থাকায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পরে সিট ছাড়াই ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। পরদিন শুক্রবার সিট ফেরত নিতে গেলে ইমরান নামের এক ব্যক্তি তার কাছে ৭০০ টাকা দাবি করেন। প্রথমে সন্দেহ হলেও টিআই সাজ্জাদের সঙ্গে কথোপকথনের একটি রেকর্ড শোনানোর পর তিনি বাধ্য হয়ে ৭০০ টাকা দিয়ে সিট ফেরত নেন বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইজিবাইক চালকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে যানবাহন আটক করে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেক সময় একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০টি অটোরিকশা আটক করে জরিমানার স্লিপ ধরিয়ে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ না হলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন চালকদের কেউ কেউ।
অভিযোগের বিষয়ে টিআই সাজ্জাদ বলেন, “অটো আটক করতে গেলে আমার পায়ে ধাক্কা লাগে। পরে চাবি নিতে গেলে চালক চাবি দিতে না চাওয়ায় সিট খুলে রেখে দিয়েছিলাম। পরদিন এসে ইমরানের কাছ থেকে সিট নিয়ে গেছে।” টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।” তবে টিআই সাজ্জাদের নাম ব্যবহার করে ইমরান নামে ওই ব্যক্তি টাকা আদায় করেছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য