খোকসা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর মো. ফরহাদ হোসেন টিস্যুর বিরুদ্ধে তাঁর ৮ বছরের মেয়ের প্রাইভেট শিক্ষিকাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকার দাবি, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হতো। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়েও দিনের পর দিন কালক্ষেপণ করেন অভিযুক্ত। একপর্যায়ে বিয়ের দাবি জানালে শিক্ষিকা ও তাঁর মাকে মারধর করা হয় এবং কাঁচি দিয়ে তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ফরহাদ হোসেন ওরফে টিস্যু, তাঁর স্ত্রী (ওয়ার্ড পরিবার পরিকল্পনা সহকারী) শিলা খাতুন ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চারজনের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ঐ নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত টিস্যু প্রায় চার বছর আগে একই গ্রামের হাজী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ওই বাড়িতে থাকার সময় ফরহাদ হোসেন টিস্যুর ৮ বছর বয়সী মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন ভুক্তভোগী নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় থেকেই ফরহাদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
ঐ নারীর অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে ফরহাদের স্ত্রী ও মেয়ে বাড়িতে না থাকার সুযোগে ফরহাদ তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে নিজের মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করা হতো। ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ফরহাদ তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাস দেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে দিনের পর দিন কালক্ষেপণ করতে থাকেন। যার প্রেক্ষিতে গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ফরহাদের স্ত্রী শিলা খাতুন ও অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি তাঁদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে শিলা খাতুন ও অন্যরা তাঁকে মারধর করেন। এ সময় কাঁচি দিয়ে তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয়। তাঁর ৪৫ বছর বয়সী মা এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় তিনি কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন টিস্যু বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছেন। আপনারা নিউজ করেন। তবে এ বিষয়ে টিস্যুর স্ত্রী শিলা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ এর সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।









