কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

প্রবাস ফেরতদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ‘ভাই আমি সৌদিআরব গিছিলাম। করোনার ভিতরে ১৮ মাস ছিলাম। বিদেশের অবস্থা খুবই খারাপ। যাওয়ার পর কাজকাম হতোনা। একদিন হতো তো দশদিন হতোনা। আবার অনেক সময় মজুরির কাজ করেও বেতন পায়নি। পরে প্রতারণা হয়া জেল খাটে ২০২২ সালে বাড়ি আইসে আবার চাষবাস করছি। বিদেশ যায়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নষ্ট করেছি।’

 

আক্ষেপের সুরে কথা গুলো বলছিলেন প্রবাস ফেরত যুবক আকরাম হোসেন। তিনি উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের নিয়ামতবাড়িয়া গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে। তিনি বলেন, বাড়িতে বিঘা চারেক জমি আছে। এখানে মাশরুম, পেঁপে, পেঁয়াজ, ভার্মিকম্পোস্ট, মালটাসহ বিভিন্ন ফসলের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কাজে লাগাতে পারলে দেশেই অনেক কিছু করা সম্ভব।

 

শুধু আকরাম নয় – জানা গেছে, বিভিন্ন বিদেশ থেকে প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসন ও স্ব-নির্ভরশীল কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৫ কার্যদিবস ব্যাপী বৃত্তিমূলক কৃষি প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। রেইজ প্রকল্পের অর্থায়নে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে কুষ্টিয়া প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় গতকাল ২৫ অক্টোবর (রবিবার) দুপুরে আলোচনা সভা ও সনদ বিতরণের মধ্যদিয়ে শেষ হয় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এতে বিভিন্ন বিদেশ থেকে ফেরত উপজেলার অন্তত ৫০ জন প্রবাসী অংশ নেন। সনদ বিতরণী অন্ষ্ঠুানের প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শওকত হোসেন ভূইঁয়া।

 

কুষ্টিয়া প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এমন প্রশিক্ষণে খুশি প্রবাস ফেরতরা। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বুনছেন তারা।

 

প্রায় সাত বছর মালয়েশিয়া ছিলেন চাপড়া ইউনিয়নের সানপুকুরিয়া গ্রামের আহম্মেদ আলীর ছেলে ওহিদুর রহমান। তিনি জানান, সম্প্রতি দেশে ফিরে অনেকটা হতাশার মধ্যে ছিলাম। তবে ১৫ দিন ধরে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ পেয়ে খুবই উপকার হয়েছে। আর বিদেশ নয়, আধুনিক কৃষিতে দেশেই অনেক কিছু সম্ভব। তাঁর ভাষ্য, তিনি পেঁয়াজ, পেঁপের পাশাপাশি ভার্মিকম্পোস্ট সার তৈরি করে উদ্যোক্তা হবেন।

 

সৌদিআরব থেকে তিন-চার বছর আগে বাড়িতে এসেছেন কুমারখালীর কালিকাতলার জামছের আলীর ছেলে মো. আশরাফুল আলম। তিনি বর্তমানে নিজ বাড়ির আঙিনায় একটি মুদি দোকানির ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, আগেই কিছুই জানতাম না। এখন প্রশিক্ষণ নিয়ে নার্সারি, মাশরুম, মালটাসহ বিভিন্ন চাষ সমন্ধে জানলাম। ব্যাংক থেকে ঋণও দিতে চেয়েছে। আশা করছি দোকানের পাশাপাশি নার্সারি করবো।

 

কুষ্টিয়া প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ জানান, বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের পুনর্বাসন, স্ব – নির্ভরশীল কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষে আধুনিক কৃষির মাশরুম, মালটা, ভার্মি কমপোষ্ট সার, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ১৫ কার্যদিবস প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আশা করছি প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে দেশেই ঘুরে দাঁড়াবেন প্রবাস ফেরতরা।

 

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শওকত হোসেন ভূইঁয়া বলেন, রেইজ প্রকল্পের আওতায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ফলে প্রবাস ফেরতরা কর্মসংস্থান পাবেন এবং স্বনির্ভরতার পাশাপাশি কৃষির উৎপাদন বাড়বে। কৃষি অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর