কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

যৌলুশ হারিয়েছে কুমারখালীর শতবর্ষী মন্দিরের আড়ং

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ঘড়ির কাটায় বিকেল ৪টা বেজে ৪৯ মিনিট। তখনও অনেকটা সুনসান কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের এতমামপুর ঠাকুরবাড়ি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ চত্বরের আড়ং (গ্রামীণ মেলা)। হাতে গুণা কয়েকজন বসে আছেন পণ্যের পসরা সাজিয়ে। নেই ক্রেতা।

 

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শমরেস কুমার চক্রবর্তী জানান, তাঁর বয়স ৭৭ বছর। জন্মের পর থেকে পূজার সাথে মেলা হয়ে আসছে। এটা ঠাকুরবাড়ি পূজা মন্দির। ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে উৎসব হয়ে আসছে। দুই দশক আগেও পূজা ঘিরে চলত যাত্রাপালা। বসত গ্রামীণ মেলাও। এখন আর সেসব হয়না।

 

তাঁর ভাষ্য, সময়ের ব্যবধানে অনেকেই ভারতে চলে গেছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন এলাকায় বসতি গড়েছেন। এখন হিন্দু ধর্মেরও লোকও কম। আগের মতো আর যৌলুশ নেই। অনেকটায় বিলুপ্তির পথে মেলা।

 

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা মোস্তফা শেখ বলেন, আগে প্রতিমা বিসর্জনের দিন বিশাল মেলা হতো। হেঁটে যাওয়া যেতনা। আর এখন ফাঁকা। কেউ আসতে চাই না।

 

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঠাকুরবাড়ি পূজামণ্ডপের সামনের ফাঁকা মাঠ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। চারপাশে সুনসান নীরবতা। মাটির তৈজসপত্র, খই, জিলাপি ও মিষ্টি নিয়ে বসে আছেন হাতে গুণা কয়েকজন ব্যবসায়ী। তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা নেই বললেই চলে।

 

খেলনাপুতুল বিক্রেতা আকবর আলী বলেন, ২০-২২ বছর ধরে ঠাকুরবাড়ি মেলা করি। ১০ বছর আগেও অনেক লোক আসত। ভালো বেঁচাকেনাও হতো। এবছর দোকানদারও আসেনি। তাঁর ভাষ্য, সকাল থেকে ২৩০ টাকার মতো বেঁচাকেনা হয়েছে। আগামীতে আর আসা হবেনা।

 

দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের দিন এলেই আড়ং বসে এতমামপুর ঠাকুরবাড়ি সার্বজনীন পূজামণ্ডপ চত্বরে। সেখানে শৈশব থেকেই জিলাপি ও খইয়ের দোকান বসিয়ে আসছেন মো. শোয়েব আলী (৫৫)। আগে জমজমাট বিক্রি হলেও দিন দিন আড়ং জৌলুস হারিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

 

জানা গেছে, প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে উপজেলার বহলবাড়িয়া, লালনবাজার ও ইকোপার্ক সহ বিভিন্ন স্থানে বসে গ্রামীণ মেলা। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, হাতেগোনা কিছু দোকানি পসরা সাজিয়ে বসেছেন। তবে মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা খুব কম।

 

লালনবাজার মেলায় মাটির তৈজসপত্র নিয়ে আসা বিশ্বাস পাল (৬৫) বলেন, মেলার জন্য তিনি কয়েক মাস ধরে মাটির ব্যাংক, পুতুলসহ নানা জিনিস তৈরি করেছেন। এবারের মেলায় একেবারেই লোকজন নেই, বেচাকেনাও নেই। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১২০ টাকার বেচাবিক্রি হয়েছে তাঁর।

 

পাবনা থেকে আসা খেলনা বিক্রেতা মো. সামছুদ্দিন বলেন, মেলায় সাধারণত মানুষ সৌখিন জিনিসপত্র কিনতে আসে। কিন্তু সৌখিন এসব জিনিস এখন বারোমাসই বাজারে পাওয়া যায়। সেজন্য মানুষের মেলায় আসার আগ্রহ কমে গেছে।

 

ব্যাপক উৎসব আমেজে ৬১টি মণ্ডপে এবার দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ) নাভিদ সারওয়ার। তিনি বলেন, মেলার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানানো যাবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর