বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া শাখার ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান ও তাঁর সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত সাগরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, গত ১২ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় গোপনে নেতৃত্ব ও অর্থায়ন করেছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার দায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চাপানো, এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নেপথ্যে থেকে পুরো ঘটনার পরিকল্পনায় ভূমিকা রেখেছিলেন সাগর।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা, জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও একটি সূত্রের দাবি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছেন সাগর। পাশাপাশি আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে মাহবুব উল আলম হানিফ ও আতাউর রহমান আতারের সঙ্গে সাগরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। ওই রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও সাগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং দলটিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
এদিকে গত ১২ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনায় মিজানুর রহমান (৪০) বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় সাগরের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের প্রশ্ন, হামলার নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা থাকার অভিযোগ উঠলেও কেন তাঁকে মামলার আসামি করা হয়নি?
স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সাগরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি তাঁদের।
এ বিষয়ে সাগরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









