দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মরিচা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনি ফরাজী এবং কাকন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ও জোড়া হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি টুয়েলসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিনগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার মনি ফরাজী মরিচা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ঝালু ফরাজীর ভাই। অন্যদিকে টুয়েল ওই এলাকার আলাই ফরাজীর ছেলে। পুলিশের দাবি, টুয়েল কাকন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে জোড়া হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন, ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন, ছয় বোতল স্কাব কফ সিরাপসহ একজন, জুয়া খেলার অভিযোগে মনি ফরাজিসহ সাতজন, মাদক সেবনের অভিযোগে দুজন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া দুটি ওয়ারেন্ট রিকল মূলে খারিজ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মরিচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, রাতে পুলিশের অভিযানে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনি ফরাজী এবং কাকন বাহিনীর সদস্য টুয়েলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দৌলতপুর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে প্রায় ৮০ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়।
তিনি বলেন, আদাবাড়িয়া, প্রাগপুর, রামকৃষ্ণপুর, মথুরাপুর, ফিলিপনগর, মরিচা ও পিয়ারপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কাকন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ও জোড়া হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি টুয়েলও রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে।









