মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ অর্থাভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়া মেধাবী ছাত্র মো. আলামিন হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছে কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের একদিনের মাথায় ওই শিক্ষার্থীর এক বছরের পড়াশোনার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলামিনের হাতে দুই মাসের ১২ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
‘আন্দোলনের বাজার ডিজিটাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মনজুর এহসান চৌধুরীর পক্ষ থেকে এই মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা করে এক বছর এই সহায়তা তার ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে। চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন, আন্দোলনের বাজার পত্রিকা ও ডিজিটালের সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাসসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। আলামিন কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ভ্যানচালক মো. আলেফ আলীর বড় ছেলে।
ধারদেনা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও ভর্তির পাঁচ মাসের মাথায় অর্থাভাবে বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার ‘আন্দোলনের বাজার ডিজিটাল’-এ ‘অর্থাভাবে অনিশ্চিত ঢাবি ছাত্র আলামিনের পড়াশোনা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আসে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মনজুর এহসান চৌধুরীর। এরপরই তিনি আলামিনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনের বাজার ডিজিটালের সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন, “গণমাধ্যম শুধু সংবাদ প্রকাশই করে না, মানবিক দায়িত্বও পালন করে। আলামিনের মতো মেধাবী যেন অর্থের অভাবে ঝরে না যায়, সে জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এই উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা চাই ও আবার ঢাকায় ফিরে যাক।” সহায়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত আলামিন হোসেন বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আমার পড়াশোনা এখানেই শেষ। আন্দোলনের বাজার ডিজিটাল আমার জীবনটা বাঁচিয়ে দিল। আমি মন দিয়ে পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হতে চাই।” গণমাধ্যমের এই ভূমিকায় খুশি স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাবীব চৌহান বলেন, “এটা একটি দৃষ্টান্ত। একটি সংবাদ কীভাবে একজন মেধাবীর জীবন বদলে দিতে পারে, আলামিন তার প্রমাণ।”
কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বলেন, “এমন মানবিক কাজ চলমান থাকা উচিত।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, “একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্দোলনের বাজার পরিবারকে ধন্যবাদ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আমরা তার জন্য সরকারি বৃত্তির চেষ্টা করব। সাংবাদিকরা যে এভাবে এগিয়ে এসেছেন, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।” আলামিনের পরিবারে এখন আবার হাসি ফিরেছে। ভ্যানচালক বাবা আলেফ আলী ছেলেকে আবার ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মনজুর এহসান চৌধুরীর মতো সমাজের অন্য বিত্তবানরাও আলামিনের মতো অদম্য মেধাবীদের পাশে দাঁড়াবেন, যাতে কোনো মেধাবী স্বপ্ন অর্থাভাবে ঝরে না যায়।









