ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. নাজমুল হকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়া শহরে তার একাধিক জমি ও বাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি অনুসন্ধানে কুষ্টিয়া শহরের কোটপাড়া এলাকায় নাজমুল হকের একটি পাঁচতলা ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনটির নাম ‘নাজ প্যালেস-১’। ভবনের সামনে ‘ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি’ লেখা একটি নেমপ্লেটও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০১০ সালের দিকে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে দোতলা পর্যন্ত নির্মাণ করে কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে আরও তিনতলা নির্মাণ করে দুই ইউনিটের পাঁচতলা ভবন করা হয়। ভবনটির নির্মাণ ও সাজসজ্জা বেশ ব্যয়বহুল বলেও জানান তারা। অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় নাজমুল হকের জমি ও আরও কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। নাজমুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন নেওয়া, বেনামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ নেওয়া এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কাজের ক্ষেত্রে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়েছেন। মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
নাজমুল হক ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া ঠিকাদারদের বিল ছাড় না দেওয়া এবং বিভিন্ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, কাজের বিল পাস ও বিভিন্ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। এমনকি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তার কাজ করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এদিকে ২০২৬ সালের ১১ মে কুমারখালী সিভিল আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় নাজমুল হককে ১৭ নম্বর বিবাদী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সড়কের কাজ চলাকালে নাজমুল হক হঠাৎ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ঠিকাদারদের আলাদাভাবে ডেকে কথা বলেন। কখনো চায়ের দোকান বা কোনো বাড়িতে নিয়ে একান্তে আলোচনা করেন। সেখানে কাজের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে টাকা দেওয়ার কথা বলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে নাজমুল হক প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে নাজমুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মঈনুল ইসলাম রওশনী বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেলে দুদক আইন অনুযায়ী তদন্ত করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজনে অবৈধ সম্পদ জব্দ, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়।








