কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ইবির তিন হল ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন; ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ইবি প্রতিনিধি ॥ প্রায় ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তিনটি আবাসিক হল। এতে তীব্র গরম, পানি সংকট, পড়াশোনা ও ঘুমের ব্যাঘাতসহ দৈনন্দিন কাজে নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন হলগুলোর আবাসিক শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার কথা থাকলেও সেদিন সংযোগ স্বাভাবিক ছিল। পরে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়।

যা শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর প্রায় ৩টায় স্বাভাবিক হয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলগুলোর মধ্যে রয়েছে মেয়েদের খালেদা জিয়া হল, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল এবং ছেলেদের শাহ আজিজুর রহমান হল। জানা যায়, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ক্যাম্পাসের ৪ নম্বর সাবস্টেশনে (জুলাই-৩৬ হলের সামনে) বৈদ্যুতিক এইচটি ক্যাবলে ত্রুটির কথা জানানো হয়। ত্রুটি নিরসনে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা ছিল। নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে বিকেল ৫টার মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করার কথাও উল্লেখ ছিল।

তবে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ না রেখে শুক্রবার সকাল থেকে তিনটি হলে সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও রাত পেরিয়ে শনিবার বেলা ৩ টায় তা স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। নির্ধারিত জায়গার বাইরে সংযোগ না থাকা এবং ভোল্টেজ কম থাকায় জেনারেটরের বিদ্যুৎ থেকে প্রয়োজনীয় সুবিধা পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় হলগুলোর পানির পাম্পও স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। ফলে খাবার পানি, গোসলসহ প্রয়োজনীয় কাজে সংকট তৈরি হয়েছে।

আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের চার্জও শেষ হয়ে গেছে, এতে অনলাইন কার্যক্রম ও পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ফারহানা ইবাদ বলেন, “আগের দিন নোটিশ দিয়ে পরের দিন বাস্তবায়ন এবং অপ্রত্যাশিতভাবে প্রায় দেড় দিন বিদ্যুৎ না থাকা আবাসিক হলের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। পানির সমস্যা না হলেও হলের ডাইনিংয়ে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকেই অভুক্ত থাকতে হয়। যাদের পরীক্ষা চলছে তাদেরকে অনেক বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। হলে পর্যাপ্ত জেনারেটর সুবিধা নেই।

শুধু করিডোর ও নতুন ব্লকে জেনারেটরের কিছুটা আলো থাকলেও পুরাতন ভবনগুলোতে সেই সুবিধাও ছিল না। শাহ আজিজুর রহমান হলে অবস্থানরত ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ থাকবে না বলে নোটিশ দেওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু সেদিন বিদ্যুৎ থাকলেও শুক্রবারে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সারাদিন বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে জেনারেটর নির্ভর হতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, যা দিয়ে ঠিকমতো কাজও চলছে না। সামনে যাদের পরীক্ষা কিংবা যারা চাকরির জন্য পড়াশোনা করছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ২৭ ঘণ্টা ধরে হলে বিদ্যুৎ নেই, এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক বলেন, ‘সাবস্টেশনের সংস্কারকাজ করতে গিয়ে লাইনে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। শুক্রবার রাতে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব না হওয়ায় জেনারেটরের লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও হলসহ বিভিন্ন জায়গায় লাইনে ফল্ট দেখা দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রান্সমিটারে সমস্যা থাকার কথা থাকলেও সেটি ঠিক আছে। মূলত ক্যাবলের সংযোগে ত্রুটি রয়েছে। ক্যাবলের সংযোগ খুলে ফেলায় বর্তমানে জেনারেটরের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে ডাকা হয়েছে, আমরাও তাদের সঙ্গে কাজ করছি। প্রত্যেকটি লাইন ও সংযোগ পরীক্ষা করে সমস্যাটি ঠিক কোথায় হয়েছে তা শনাক্ত করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর