কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ স্বাস্থ্যবিধির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে পোলাও-বিরিয়ানি, চিকেন ফ্রাই, দই-মিষ্টি সহ মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এসব খাবারের দোকানের বাহারি ও আকর্ষণীয় নাম দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী এসব খাবারের দোকানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশীর ভাগ খাবারের দোকান প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে খাবার তৈরির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়েও নেই যথাযথ তথ্য। কোথাও আবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে খাবার। সরেজমিনে কয়েকটি খাবারের দোকানে দেখা যায়, রান্না ও খাবার তৈরির স্থান অনেক ক্ষেত্রেই অপরিচ্ছন্ন। তৈরি খাবার রাখা হয়েছে খোলা অবস্থায়। খাবারের আশপাশে মাছির উপস্থিতিও চোখে পড়ে। কর্মীদের পোশাক অপরিষ্কার; যথাযথ সুরক্ষা ছাড়াই খাবার তৈরির কাজ করছেন। এসব খাবারই কিনে খাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোররা।
কুমারখালী পৌর বাজারে প্রায় ৪০টির বেশি খাবারের দোকান রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অল্প কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশেরই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে উপজেলার শহর ও ১১টি ইউনিয়নের হাট-বাজার মিলিয়ে মোট কতটি খাবারের দোকান রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাবও সংশ্লিষ্ট স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কাছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সম্পর্কেই সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই, সেগুলোর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিদর্শন ও নজরদারি কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাদ্য তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য শর্ত পূরণের পরই লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবেই অনেক ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাঁরা নিয়মিত পরিদর্শন ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কুমারখালী উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহানাজ আক্তার বলেন, তাঁরা নিয়মিত খাবারের দোকানে গিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা দেন। দোকানিদের লাইসেন্স করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়। তিনি বলেন, খাবারের দোকানের পরিবেশ ভালো রাখার বিষয়েও নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়। তবে অনেক ব্যবসায়ী লাইসেন্স করতে আগ্রহী নন। এ কারণে মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানাও করা হয়।









