কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খেলাধুলার মাধ্যমেই তরুণ সমাজ মাদকের হাত থেকে ফিরে খেলার মাঠে আসবে: অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়ায় হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িয়াবান্ধা (গাদন) খেলা নতুন প্রজন্মের মাঝে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমেই তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করা সম্ভব। গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া বলফিল্ড মাঠে দুই দিনব্যাপী দাঁড়িয়াবান্ধা (গাদন) খেলার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, “দাঁড়িয়াবান্ধা গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য। হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে যারা চেষ্টা করেছেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। খেলাধুলার মাধ্যমেই তরুণ সমাজ মাদকের হাত থেকে ফিরে খেলার মাঠে আসবে।” তিনি আরও বলেন, “ঝাউদিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন। আমিও একসময় এই ঝাউদিয়া বলফিল্ড মাঠে ফুটবল খেলেছি। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে ফুটবল বিতরণ করেছি। ছেলেদের নিয়মিত খেলার মাঠে ফেরাতে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি চলমান থাকবে।”

রাশিদা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হাফিজ লালু, মনোহরদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হায়াত আলী, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম আন্টু, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা,

ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, জেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম টিপু।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাশিদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা উত্তম কুমার বিশ্বাস ও সংগঠনের সভাপতি শাহারিয়া ইমন রুবেল। রাশিদা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও আয়োজক শাহারিয়া ইমন রুবেল বলেন, “গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে এসব খেলা তুলে ধরা এবং মানুষকে মাঠমুখী করা। এবারের আয়োজনে মানুষের যে সাড়া পেয়েছি, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতেও রাশিদা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”

ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় সোনার বাংলা ক্লাব ও আজিত স্মৃতি সংসদ। বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হওয়া খেলাটি শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে গাদন দিতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী টসের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। টসে সোনার বাংলা ক্লাব বিজয়ী হলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে দুই দলকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে উভয় দলকে ১৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। ‘ভালোবাসার হাত বাড়াই, মানবতার আলো ছড়াই’ স্লোগানকে ধারণ করে রাশিদা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতায় মোট আটটি দল অংশ নেয়।

দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে ঝাউদিয়া এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে ভিড় করেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকেও দর্শনার্থীরা এসে ঐতিহ্যবাহী এ খেলা উপভোগ করেন। খেলা দেখতে আসা দর্শনার্থী শুভ বলেন, “ছোটবেলায় গ্রামবাংলার মাঠে এ ধরনের খেলা অনেক দেখেছি। এখন মোবাইল ও আধুনিক বিনোদনের কারণে এসব ঐতিহ্যবাহী খেলা প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। এখানে এসে গাদন খেলা দেখে খুব ভালো লাগছে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্মও আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।”

আরেক দর্শনার্থী খাদিমুল বলেন, “খেলা দেখতে এসে মনে হলো, আমরা যেন আগের সেই গ্রামবাংলায় ফিরে গেছি। মাঠের চারপাশে এত মানুষ, সবার মধ্যে যে আনন্দ দেখলাম, তা সত্যিই ভালো লাগার মতো। শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এ ধরনের আয়োজন এলাকার মানুষের মধ্যে সুন্দর একটি মিলন তৈরি করে।” আয়োজকদের মতে, আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে গ্রামীণ খেলাধুলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এবারের আয়োজনে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহেরই প্রতিফলন।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর