কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ চেকপোস্ট বসিয়ে দুইটি গরুসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের তিন চোরকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর সৈয়দ মাছ-উদ-রুমী সেতুর টোলপ্লাজা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও তিন চোর পালিয় গেলেও একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড-১১-৭৮৯৯) জব্দ করেছে পুলিশ। এ দিকে সামাজিক যোগাযোগের দ্রুততম মাধ্যম ফেসবুকে জব্দকৃত গরু, ট্রাক ও আসাদিদের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলার অন্তত ২০ জন গরুর মালিক কুমারখালী থানায় ছুটে আসেন।
পরে গরুর প্রকৃত মালিক সনাক্ত হলে জব্দকৃত গরু, ট্রাকসহ আসামিদের গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন – মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জয়নাল ব্যাপারীর ছেলে মো. জসিম (৪০), ফরিদপুর সদর উপজেলার মাতুয়ার ডাঙ্গীর মেহের জোয়ার্দারের ছেলে সোলেমান জোয়ার্দার (৩৬) ও রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার দত্ত মাজাইলের আব্দুল মজিদের ছেলে সবুজ হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আর জব্দৃকত গরুর প্রকৃত মালিক কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার গৌস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের আসাননগর গ্রামের মোয়াজ্জেম মণরডলের মণ্ডলের ছেলে সানোয়ার মণ্ডল (৬০)। তিনি পেশায় কৃষক। মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে বাইরে থেকে বসতঘরের দরজায় খিল লাগিয়ে গোয়ালঘরের তালা কেটে একটি গাভী ও এক ষাঁড় গরু গরু ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি। গরুর বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। গরু গুলো ট্রাকে ত্রিপলে ঢেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গতকাল দুপুরে কুমারখালী থানা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, থানার পিছন গেটে রাখা রয়েছে জব্দকৃত ট্রাকটি।
ট্রাকের ভিতরে দুইটি সাদা রঙের গরু। ট্রাকটির চারদিকে বেশকিছু উৎসুক জনতা ভিড় করেছে। এ সময় কৃষক সানোয়ার মণ্ডল বলেন, গতকাল (বুধবার) রাত ৩টার দিকে ঘুম ভেঙে দেখি ঘরের দরজায় বাইরে থেকে খিল লাগানো। পরে ফোন পেয়ে বড় এসে দরজা খুলে দেয়। এরপর দেখি গোয়ালঘরের দরজা খোলা। গরু দুটি নেই। চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করেও গরু পাইনি। সকালে বড় মেয়ে ফোন দিয়ে বলল গরু কুমারখালী থানায়। তার ছেলে সিফাত হাসান বলেন, ফেসবুকে কুমারখালী থানায় গরু উদ্ধারের খবর শুনে ছুটে এসে দেখি ট্রাকের ভিতরে রয়েছে আমাদের চুরি হওয়া গরু। আমরা থানায় মামলা করব। গরু উদ্ধারের খবর শুনে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার যাদবপুর থেকে ছুটে এসেছেন আব্দুল কাদেরের ছেলে আব্দুর রব (২৯)। তিনি বলেন, ১৯ আগষ্ট ভোরে বাড়ির পাকা সিমানা প্রাচীর টপকিয়ে দরজা ভেঙে দুইটি ফ্রিজিয়ান জাতের বকন গরু চুরি করে নিয়ে গেছে চোর চক্র। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ফেসবুকে গরু উদ্ধারের খবর শুনে থানায় এসে দেখি গরু দুটি আমার না। কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা থেকে আসা কৃষক দুলাল উদ্দিন বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে দুটি ষাঁড় গরু চুরি করেছে চক্রটি। যার দাম প্রায় দিন লাখ ২০ হাজার টাকা। সম্পদ বলতে গরু দুটিই ছিল। তাও চোরে নিয়ে গেছে। এখন নিঃস্ব। পথের ফকির। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ ভালো কাজ করছে। তবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি। কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউরিয়ায় ব্যবসায়ী জামিউল ইসলাম বলেন, সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঘুমিয়েছিলাম। গেটের তালা ভেঙে প্রায় ৮০ হাজার টাকার একটি ষাঁড় নিয়ে গেছে চোর। পরে সিসিটিভিতে দেখি নীল রঙের ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছে গরু। ফেসবুকে গরু উদ্ধার খবর পেয়ে এসে দেখি নীল রঙের ট্রাক আছে ঠিকই। কিন্তু আমার গরু নেই।
পরে থানায় মামলা করেছি আজ (গতকাল)। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে রাতে টোলপ্লাজা এলাকায় চেকপোস্ট চলছিল। হঠাৎ সন্দেহজনক ভাবে একটি ট্রাকে তল্লাশী শুরু করলে তিনজন লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে ট্রাকে দুইটি গরুসহ অপর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটি চুরির কথা স্বীকার করে। পরে গরু, ট্রাক ও আসামিদের ইবি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁর ভাষ্য, আসামিরা আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। গরু উদ্ধারের খবর পেয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক মানুষ থানায় এসেছিল গরুর সন্ধান করতে।









