কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ভেড়ামারায় চার হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ সোনালি আঁশ পাট। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশ হলেও, কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম স্থান দখল করে আছে। এখন চলছে পাটের মৌসুম। পাট কাটা এবং আঁশ তোলার উপযুক্ত সময় আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস (মূলত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর)। পাটগাছে ফুল আসার সময় বা পরিপক্ব হলে গাছ কাটা হয়। এরপর জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়ানো হয়।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় কৃষকেরা পাটখেত থেকে কেটে জাগ দেওয়ার পর ধুয়ে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার বিভিন্ন খালবিল, ডোবা, পুকুর, জলাশয় ও পদ্মা নদীর শাখা হিসনা নদীতেও কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া ও পাটের আঁশ ছাড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে। এদিকে সময় মত বৃষ্টি ও আবহাওয়া ভালো থাকায় পাটের ভালো ফলন আশা করছেন চাষিরা। বাজারে পাটের বেশ চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নদী ও খালবিলে গিয়ে কৃষকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। কেউ পাট কেটে জাগ দিচ্ছেন, কেউ পাট থেকে সোনালী আঁশ সংগ্রহ করছেন, কেউ আবার ধোঁয়া পাট ও পাটখড়ি রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও পাটের আঁশ রোদে শুকাতে অংশ নিয়েছে। কৃষকদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিঘা প্রতি মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা খরচ করে কৃষকরা আয় করছেন ৪৫-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তাই আবার সোনালি আঁশে নতুন স্বপ্ন দেখছেন তারা। তবে কৃষকরা পাট চাষে সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর দাবি করেছেন। হাট বাজারেও উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। এ বছর ভেড়ামারা উপজেলায় পাটের ফলন খুব ভালো। দামও ভালো, আর এতে খুশি চাষীরা। অধিক ফলন আর ভালো দামে ক্লান্তির কোন চিহ্ন যেন নেই তাদের চোখে মুখে। উপজেলায় এবার প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩২০০-৪২০০ টাকায়।

এবছর ভেড়ামারা উপজেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ২৫৫ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে ৪ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। ভেড়ামারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সদরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে পাটের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাট কাটার পর সঠিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া হলে আঁশের মান ভালো হবে এবং কৃষকেরা বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পাট জাগ দেওয়ার সময় পরিষ্কার পানি ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর পর ভালোভাবে ধুয়ে শুকানোর বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত আঁশ উৎপাদন করতে পারলে বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটিই ভালো থাকবে। ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা পলি বলেন, ‘ভেড়ামারা উপজেলার মাটি পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে ১১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ বেশি হয়েছে। চলতি বছরে এ উপজেলায় ৪ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর