বিশেষ প্রতিনিধি ॥ একসময় যে অঞ্চলে লতিকচুর আবাদ খুব একটা দেখা যেত না, এখন সেই লতিকচুই সংসারে আয়ের নতুন উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে গৃহিণী শিরিনা খাতুনের। মাত্র ২০ শতক জমিতে বারি-পানিকচু-১ জাতের চাষ করে তিনি এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের স্বরুপের ঘোপ গ্রামের বাসিন্দা শিরিনা খাতুনের পতিত জমিতে এখন সবুজ কচুগাছে ভরপুর লতি। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে লতিকচু চাষে সফলতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিরিনা জানান, গত মে মাসে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি চারা রোপণ করেন। রোপণের মাত্র ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই লতি বিক্রি শুরু করেন তিনি। শিরিনা বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দুই মণ লতি বাজারে সরবরাহ করছি।
পুরো মৌসুমে লতি বিক্রি করে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে এই চাষ করার ইচ্ছা আছে।’ ভেড়ামারা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম বলেন, বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া নিচু জমি নিয়ে কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল। তবে শিরিনা খাতুন প্রমাণ করেছেন, এমন স্যাঁতসেঁতে জমিতেও কচুর সফল আবাদ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় শিরিনা খাতুনকে চারা, সার ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। লতিকচু চাষ এখন শুধু নিজেদের খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি বাণিজ্যিক মডেলে পরিণত হয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত থেকে শিরিনা খাতুন নিয়মিত আয় করতে পারছেন, যা তাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে।









