বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রেমের সম্পর্কের জেরে দুই বিবাহিত তরুণ-তরুণী একসঙ্গে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে দুজনই চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজন হলেন মিরপুর উপজেলার কুরিপুর গ্রামের আলমের ছেলে শাকিল (২০) এবং ধুবইল হাজীপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে নুরুন্নাহার (১৮)।
জানা গেছে, শাকিল প্রায় ছয় বছর আগে রিমা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে নুরুন্নাহারের প্রায় আট-নয় মাস আগে মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে মুঠোফোনে বিয়ে হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে শাকিল ও নুরুন্নাহারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা কুষ্টিয়া শহরের রেনউক বাঁধ এলাকায় গিয়ে একসঙ্গে বিষপান করেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে রেনউক বাঁধের দারোয়ান দ্রুত তাদের উদ্ধার করে একটি রিকশায় তুলে দেন। পরে রিকশাচালক তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। রিকশাচালক রেজাউল বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেনউক বাঁধের দারোয়ান দুজনকে আমার রিকশায় তুলে দেন। তিনি জানান, তারা বিষ খেয়েছেন। তখন ছেলেটির অবস্থা বেশি খারাপ ছিল। মেয়েটি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল। আমি দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে দুজনকেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর নুরুন্নাহার বমি করতে শুরু করেন।
পরে জানতে পারেন, তারা দুজনই বিবাহিত এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শাকিল একটি বস্ত্রবিতানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। তার স্ত্রী রিমা বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে জানতে পারি, তার অন্য কোথাও সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাকে বললে সে আর ওই সম্পর্ক রাখবে না বলে জানিয়েছিল। এরপর এ নিয়ে আর কখনো তার সঙ্গে কথা হয়নি। কিন্তু আজ কেন তারা দুজন একসঙ্গে বিষ খেলো, তা আমি বুঝতে পারছি না। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরুন্নাহার ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না।
তবে সংক্ষেপে তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে শাকিলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এর আগে প্রায় আট-নয় মাস আগে মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে তার মুঠোফোনে বিয়ে হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার তারা কেন একসঙ্গে বিষপানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। নুরুন্নাহারের চাচা বলেন, প্রায় আট মাস আগে মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। তার স্বামী মালয়েশিয়ায় থাকেন। বিয়ের আগে তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, আমরা জানতাম না। তারা কেন একসঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিও আমাদের জানা নেই।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. ইকবাল হাসান বলেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এক রিকশাচালক বিষপান করা অবস্থায় ওই দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার পর তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সামনে পাশাপাশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন শাকিল ও নুরুন্নাহার। তাদের একজনের পাশে স্ত্রী, অন্যজনের পাশে স্বজনেরা উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
শাকিলের স্ত্রী রিমাকে কখনো স্বামীর পাশে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়, আবার কখনো আত্মীয়-স্বজনের ফোনে ঘটনার কথা জানাতে দেখা যায়। পাশে থাকা দুই বছরের শিশুটি বাবার কী হয়েছে, তা হয়তো এখনো বুঝতে পারছে না। এদিকে এ ঘটনার প্রভাব শুধু ওই দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে দুটি পরিবার, দুটি দাম্পত্য জীবন এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল স্বজনদের ভবিষ্যৎ। জীবনের কঠিন সময়ে আবেগের বশে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত অনেকগুলো জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। তাই সম্পর্কের টানাপোড়েন বা হতাশার মুহূর্তে আত্মহত্যার পথ নয়, বরং পরিবার, স্বজন কিংবা বিশ্বস্ত মানুষের সহায়তা নেওয়াই জরুরি।









