কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া কেন শিল্প সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয়?

পদ্মা, গড়াই আর কালিগঙ্গার পলি-ধোয়া হাওয়ায় যে ভূখণ্ডের জন্ম, তার নাম কুষ্টিয়া। ভৌগোলিক আয়তনে হয়তো এটি দেশের অন্যতম মাঝারি একটি জেলা, কিন্তু ইতিহাস, সাহিত্য, রাজনীতি এবং শিল্প-বাণিজ্যের বিস্তৃতিতে কুষ্টিয়া এক বিরাট মহীরুহ। নদীমাতৃক বাংলার হৃদয়পুরে অবস্থিত এই জনপদকে কেন ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী’ এবং ‘শিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র’ বলা হয়, তার উত্তর লুকিয়ে আছে এর প্রতিটি ধূলিকণায়। লালনের একতারার সুর, রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী, প্রমিত বাংলা ভাষার লালনভূমি, আর অন্যদিকে খাজানগরের চালের ধানের গন্ধ কিংবা বিআরবি ক্যাবলের কারখানার চাকা—সব মিলে কুষ্টিয়া যেন এক জীবন্ত রূপকথা।

Table of Contents

১. প্রমিত বাংলা ভাষার সূতিকাগার: নদীয়ার মুখের ভাষা ও কুষ্টিয়ার বাকরীতি

বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য কুষ্টিয়ার সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবদান হলো এর ভাষা। যাকে আমরা আজ ‘প্রমিত চলিত বাংলা’ (Standard Colloquial Bengali) বলি, তার জন্ম ও বিকাশ এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই।
  • নদীয়া উপভাষার ঐতিহ্য: অবিভক্ত ভারতের বৃহত্তর নদীয়া জেলার অংশ ছিল আজকের কুষ্টিয়া। ভাষাবিদ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ভাগীরথী ও গড়াই নদীর অববাহিকার (বৃহত্তর নদীয়া-কুষ্টিয়া) মানুষের মুখের ভাষাই পরবর্তীতে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সর্বজনগ্রাহ্য প্রমিত রূপ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
  • প্রমথ চৌধুরী ও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচর্চা: সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সাধু ভাষার কৃত্রিমতা ভেঙে যখন চলিত ভাষাকে সাহিত্যিক রূপ দিতে শুরু করেন, তখন কুষ্টিয়া অঞ্চলের মিষ্ট, স্পষ্ট ও সাবলীল বাক্যরীতিকেই তারা ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
  • আঞ্চলিকতার বিকৃতিহীন উচ্চারণ: কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভাষার উচ্চারণ এতই প্রমিত ও স্পষ্ট যে, তা কোনো কৃত্রিম আঞ্চলিকতার দোষে দুষ্ট নয়। ‘বাপেক’, ‘পুতেক’ কিংবা অতিরিক্ত আঞ্চলিক টানমুক্ত এই অঞ্চলের মুখের ভাষাকেই ব্যাকরণবিদগণ বিশুদ্ধ বাংলা কথ্য রূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাই প্রমিত বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কুষ্টিয়ার অবস্থান অনন্য।

২. আধ্যাত্মিকতা ও সাহিত্যিক রেনেসাঁর তীর্থভূমি

কুষ্টিয়া কোনো সাধারণ জেলা নয়, এটি বাঙালির আত্মার সান্নিধ্যে আসার এক পবিত্র ধাম। এখানে লালিত হয়েছে বিশ্ববাঙালির ভাব ও দর্শনের সেরা রত্নগুলো।

বাউল সম্রাট লালন সাঁই ও সাঁইজির ছেঁউড়িয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়াতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী দর্শনের প্রবক্তা বাউল সম্রাট লালন সাঁই। ১৭৭৪ থেকে ১৮৯০ পর্যন্ত দীর্ঘ জীবনকালে লালন তাঁর হাজার হাজার বাউল গানের মাধ্যমে জাত-পাত, ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানবতার বাণী প্রচার করেছিলেন। “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে”—এই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি যে সাম্যবাদের বার্তা দিয়েছিলেন, তা আজকের বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও সমান প্রাসঙ্গিক। লালনের ভাবধারা শুধু সাধারণ বাউলদের নয়, প্রভাবিত করেছিল স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ও শিলাইদহের কুঠিবাড়ি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর যৌবনের এক অত্যন্ত প্রজননশীল সময় (১৮৯১ থেকে ১৯০১) কাটান কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে। জমিদারির দেখভালের উদ্দেশ্যে এলেও গড়াইয়ের শান্ত বাতাস ও পদ্মার বিশালতা তাঁর কাব্যপ্রতিভাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
  • কুষ্টিয়াতে বসেই তিনি রচনা করেন সোনার তরী, চিত্রা, chaitali, কণিকা, খেয়া, কথা ও কাহিনী-র মতো মহাকাব্যিক কাব্যগ্রন্থ।
  • তাঁর নোবেলজয়ী গ্রন্থ গীতাঞ্জলি-র অধিকাংশ অনুবাদের ভাববীজ এই শিলাইদহে বসেই অঙ্কুরিত হয়েছিল।
  • তিনি প্রবর্তন করেছিলেন ‘পদ্মা বোটের’ নির্জন সাহিত্য সাধনা, যা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।

কালজয়ী সাহিত্যিকদের উপস্থিতি

  • মীর মশাররফ হোসেন: মহাকাব্যোপম উপন্যাস বিষাদসিন্ধু-র রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতি বিজড়িত লাহিনীপাড়া এই জেলাতেই অবস্থিত। তাঁর অমর সৃষ্টিসমূহ বাংলা সাহিত্যের গদ্যরীতির বিকাশে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে।
  • কাজী মোতাহার হোসেন: প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ড. কাজী মোতাহার হোসেনের শৈশব ও শিক্ষাজীবনের অনেকটা কেটেছে এই মাটিতে।
  • ড. লুৎফর রহমান: মানবতাবাদী লেখক ও ‘উন্নত জীবন’-এর স্রষ্টা ড. লুৎফর রহমানের জন্মও এই সমৃদ্ধ জনপদে।

৩. মুক্তিসংগ্রাম, গ্রামীণ সাংবাদিকতা ও প্রগতিশীল আন্দোলন

বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ইতিহাসেও কুষ্টিয়া অগ্রগামী।

নীল বিদ্রোহ ও কাঙ্গাল হরিনাথ

উনবিংশ শতাব্দীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নীলকরদের নির্মম অত্যাচার থেকে কৃষক সমাজকে বাঁচাতে কুমারখালীতে গর্জে উঠেছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ (হরিনাথ মজুমদার)। ১৮৬৩ সালে তিনি প্রকাশ করেন গ্রামবার্তা প্রকাশিকা নামক ঐতিহাসিক পত্রিকা। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা অর্থবিত্ত না থাকা সত্ত্বেও কাঠ দিয়ে তৈরি প্রেসের মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ সাংবাদিকতার জন্ম দেন এবং নীলকর অত্যাচার উন্মোচন করেন।

অগ্নিযুগ ও মহীয়সী ব্যক্তিত্ব

  • বাঘা যতীন: ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের অমর শহীদ যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন)-এর জন্ম কুষ্টিয়ার কয়া গ্রামে। যিনি একক লড়াইয়ে বাঘ মেরে ‘বাঘা যতীন’ উপাধি পেয়েছিলেন এবং বালেশ্বরের যুদ্ধে দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেন।
  • বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঐতিহাসিক টোকিও ট্রায়ালে অক্ষশক্তির পক্ষে নিরপেক্ষ রায় দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনবিদ বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের জন্মও কুষ্টিয়ায়।

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলন

১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর প্রথম সংগঠিত আক্রমণ চালায় বাঙালি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। দীর্ঘ যুদ্ধে কুষ্টিয়ার গাড়াগঞ্জ ও বংশীতলার যুদ্ধ অত্যন্ত রণকৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। মেহেরপুর (যা তৎকালীন বৃহত্তর কুষ্টিয়ার অংশ ছিল) মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।

৪. অর্থনৈতিক পরাশক্তি: কৃষির রূপান্তর থেকে আধুনিক শিল্প হাব

শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কুষ্টিয়ার বিকাশ কোনো অলৌকিক বিষয় নয়; এটি কঠোর পরিশ্রম ও বাণিজ্যিক দূরদর্শিতার ফসল।

খাজানগর: বাংলাদেশের ‘রাইস বোল’ বা চালের রাজধানী

কুষ্টিয়ার খাজানগর অঞ্চলকে বলা হয় দেশের চালের মূল চালিকাশক্তি।
  • উৎপাদন সক্ষমতা: এখানে প্রায় ৪০০-এর বেশি ছোট-বড় অটো রাইস মিল এবং প্রায় অর্ধশতাধিক অত্যাধুনিক হাসকিং মিল রয়েছে।
  • জাতীয় জোগান: পুরো বাংলাদেশের চালের চাহিদার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত প্রসেস করা চাল সরবরাহ করে খাজানগর। সরু চাল, মিনিকেট, বাসমতী কিংবা আতপ—খাজানগর না চললে পুরো দেশের চালের বাজার অচল হয়ে পড়ে।

বিআরবি গ্রুপ ও শিল্প বিপ্লব

আধুনিক কুষ্টিয়াকে শিল্পক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বিআরবি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (BRB Group)।
  • ক্যাবলস, ওয়্যারস, এনার্জি, পলিমার, এবং ব্রাস ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
  • এছাড়া কেএনবি (KNB Feed), এমএসটিকে (MSTK), সোহেল মাসুদ ইন্ডাস্ট্রিজ, নাসের টোব্যাকো, এবং উডল্যান্ড গ্রুপের মতো বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই জেলা থেকে পরিচালিত হয়ে দেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল ও চিনি শিল্প

  • মোহিনী মোহন মিলস (১৯০৮): ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ‘মোহিনী মোহন মিলস’ ছিল পূর্ব বাংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ টেক্সটাইল কারখানা ও বৃহৎ সুতা শিল্প। স্বদেশী আন্দোলনের সময় এটি ভারতীয় কাপড়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাঙালিকে স্বাবলম্বী করেছিল।
  • কেরু অ্যান্ড কোং (Carew & Co.): বৃহত্তর কুষ্টিয়ার দর্শনায় (বর্তমান চুয়াডাঙ্গা) অবস্থিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি দেশের একমাত্র সরকারি অ্যালকোহল ও ডিস্টিলারি কারখানা, যার চিনি ও জৈব সার কারখানা সমগ্র অঞ্চলে বিপুল অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে।

৫. ঐতিহাসিক ‘প্রথম’ এবং স্থাপত্যের অনন্য পরিচিতি

ইতিহাসের পাতায় কুষ্টিয়া অসংখ্য ‘প্রথম’ ঘটনার সাক্ষী। নিচে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক মাইলফলকগুলো:
ক্রমঐতিহাসিক মাইলফলক / প্রতিষ্ঠানকুষ্টিয়ার ভূমিকা ও গুরুত্ব
প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (IU), যা ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়ায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
প্রথম রেলস্টেশন১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর যাত্রা শুরু করা পূর্ব বাংলার প্রথম রেলস্টেশন জগতি রেলস্টেশন কুষ্টিয়াতেই অবস্থিত।
প্রথম রেল জংশনঐতিহাসিক পোড়াদহ রেলস্টেশন দেশের প্রথম ও ব্যস্ততম রেল জংশনগুলোর অন্যতম।
প্রথম বৃহৎ রেলসেতুপদ্মা নদীর ওপর ১৯১২-১৯১৫ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং তার পাশেই নির্মিত লালন শাহ সেতু উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র।
প্রথম গ্রামীণ ছাপাখানা ও সংবাদপত্রকাঙ্গাল হরিনাথ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কুমারখালীর ‘এম.এন. প্রেস’ ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা ছিল বাংলার প্রথম গ্রামীণ গণমাধ্যম।
সর্বনিম্ন দারিদ্র্য হারপরিসংখ্যান অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলায় দারিদ্র্যের হার দেশের অন্যতম সর্বনিম্ন (মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ), যা অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পরিচয় দেয়।
প্রথম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজনারীশিক্ষায় কুমারখালী সরকারি কলেজ এবং কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয় এই অঞ্চলে প্রাথমিক যুগে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছে।

৬. সামাজিক সমৃদ্ধি, খাদ্যসংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা

কুষ্টিয়ার রূপ কেবল তথ্য ও উপাত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এর সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় সুস্পষ্ট।

সামাজিক সুচক ও উচ্চ শিক্ষার হার

কুষ্টিয়া জেলার শিক্ষার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক উঁচুতে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং বেশ কিছু প্রকৌশল ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে এই জেলা শিক্ষা-দীক্ষায় অত্যন্ত অগ্রসর। উচ্চ সামাজিক সচেতনতা ও বাণিজ্যিক প্রাণচাঞ্চল্যের কারণে এখানে অপরাধের হার অপেক্ষাকৃত কম এবং মাথাপিছু আয় অন্যান্য জেলার তুলনায় ঈর্ষণীয়।

জিআই পণ্য ও লোকজ মিষ্টি

সংস্কৃতির পাশাপাশি কুষ্টিয়ার রসনাবিলাসও দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে:
  • কুষ্টিয়ার তিলের খাজা: মুচমুচে ও সুস্বাদু ‘কুষ্টিয়ার তিলের খাজা’ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় লোকজ খাদ্য।
  • শিলাইদহের কুলফি আইসক্রিম: গরুর খাঁটি দুধ ও পেস্তা বাদামের মিশ্রণে তৈরি শিলাইদহের ঐতিহ্যবাহী কুলফি আইসক্রিম শত বছর ধরে ভোজনরসিকদের তৃপ্ত করে আসছে।
  • কুষ্টিয়ার স্পেশাল চমচম ও দধি: কুমারখালী ও শহরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারগুলোর চমচম ও রসগোল্লা জেলা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে সমাদৃত।
একটি অঞ্চল কীভাবে সুরের মুর্ছনা, অক্ষরের মায়া আর যন্ত্রের চাকা—এই তিনকে একসাথে ধারণ করতে পারে, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ কুষ্টিয়া। যে মাটিতে লালন সাঁইয়ের একতারা বেজেছে, যেখানে রবীন্দ্রনাথের কলমে ফুটে উঠেছে মহাকাব্য, যেখানকার ভাষায় বাংলা পেয়েছে তার প্রমিত রূপ; আবার যে মাটির বুক চিরে গড়ে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ চালের বাজার আর আধুনিক প্রযুক্তির কারখানা—সে মাটি কোনো সাধারণ জেলা হতে পারে না।
কুষ্টিয়া কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত দ্বারা আবদ্ধ একটি ভূমি নয়; এটি একটি ধারণা, বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের এক চিরন্তন মহাকাব্য। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা ও বাণিজ্যের এই অনন্য মেলবন্ধনের কারণেই কুষ্টিয়া বাংলা ও বাঙালির হৃদয়ে আজীবন ‘সংস্কৃতি ও শিল্পের রাজধানী’ হিসেবে অক্ষয় হয়ে থাকবে।
Tags :

ফিচার ডেস্ক, কুষ্টিয়া জিলাইভ

সর্বশেষ খবর