কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ২:৮ এএম

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় পৈত্রিক জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বাধা, প্রাচীর ভাঙচুর, নির্মাণশ্রমিকদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মোজাফফর ও তার ছেলে মো. ফয়সালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে কুষ্টিয়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মো. সৈকত ইমন। জিডি সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর থানার কমলাপুর এলাকার গীর্জানাথ মজুমদার সড়কে সৈকত ইমনের পৈত্রিক জমি রয়েছে।
ওই জমিতে তিনি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে মো. মোজাফফর ও তার ছেলে মো. ফয়সাল বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সৈকত ইমনের দাবি, এর আগেও তিনি জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু অভিযুক্তরা সেটি ভেঙে দেন। পরে পুনরায় প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে আবারও বাধা দেওয়া হয়। জিডিতে সৈকত ইমন উল্লেখ করেন, ১১ আগস্ট ২০২৬ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি তার জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছিলেন।
এ সময় মোজাফফর ও তার ছেলে ফয়সাল সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে মোজাফফর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। জিডিতে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় সৈকত ইমনের সঙ্গে থাকা দুই নির্মাণশ্রমিক মো. নিয়ামুল ইসলাম ও কিবরিয়াকে মারধর করা হয়। এতে তারা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সৈকত ইমন। একই সঙ্গে পুনরায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার সময় মো. সুমন ও হাবিবুর রহমান নামে দুজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং তারা ঘটনার বিষয়ে অবগত বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন সৈকত ইমন।
ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে হাতে লাঠি নিয়ে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। একপর্যায়ে তাকে মারতে উদ্যত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দিতেও শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। সৈকত ইমন বলেন, জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গিয়ে বারবার বাধা ও হুমকির ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
কুষ্টিয়া সদর থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. ফজলুর রহমান জিডিটি গ্রহণ করেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে একই সড়কে মোজাফফরের আরও কয়েকটি বহুতল ভবনের অস্তিত্ব দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ভবনগুলো পৌর ইমারত বিধিমালা অনুসরণ না করেই নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী মঙ্গলবাড়িয়া ক্যানেলসংলগ্ন এলাকায় মোজাফফরের আরও একটি বহুতল ভবন রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির একটি বড় অংশ সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত। স্থানীয়দের দাবি, এর আগে ভবনটি পরিদর্শনে গিয়ে এলজিইডির পক্ষ থেকে সরকারি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশনা হিসেবে ভবনের গায়ে ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাদের। তবে বর্তমানে সেই চিহ্ন রঙ দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে এবং ভবনটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। সরকারি জায়গায় ভবন নির্মাণ ও পৌর ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও অনুমোদন যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মোজাফফরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আজ সাত বছর ধরে ওই জায়গাটা আমরা রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছি। ওইটা আমাদের দলিলে রয়েছে। উনারা জোরপূর্বক দখল করে দোকান নির্মাণ করছে। এতে আমার চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।” তবে সৈকত ইমনের দাবি, জায়গাটি তার পৈত্রিক সম্পত্তি এবং সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অধিকার তার রয়েছে। একই সড়কে মোজাফফরের আরও চারটি বহুতল ভবন রয়েছে এবং সেগুলো পৌরসভার আইন লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাফফর বলেন, এগুলো আপনাকে বলার প্রয়োজন নেই।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য