কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ২:৮ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কখনো আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, আবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী কামাল আহমেদ করিমকে ঘিরে এমন নানা আলোচনা ও অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগের মধ্যেই সম্প্রতি বিএনপিপন্থি একটি পেশাজীবী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নাগরিকরা।
সম্প্রতি নবগঠিত কুষ্টিয়া জেলা পেশাজীবী দলের সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন কামাল আহমেদ করিম। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের কেউ তাকে ‘সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী তার অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তুলছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যবসায়ী হিসেবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি দলটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কামাল আহমেদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সঙ্গে তার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথাও উল্লেখ করছেন তারা। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে কামাল আহমেদকে দেখা গেছে। এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব তুলে ধরতেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলে কামাল আহমেদ করিম বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি কুষ্টিয়া জেলা পেশাজীবী দলের সহ-সভাপতির পদ পান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমি তাকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তার মূল লক্ষ্য ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থ উপার্জন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন। এখন আবার বিএনপির পদে এসেছেন।
আমার মনে হয়, তিনি এবারও দলকে বিতর্কিত করতে পারেন। অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, তার বিষয়ে আমরা কুষ্টিয়ার বিএনপির নেতাদের কাছে একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ করেছি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু আমাদের কথায় কেউ গুরুত্ব দেননি। আওয়ামী লীগের বড় বড় অনুষ্ঠানে তাকে নেতাদের পাশে বসতে দেখেছি। এখন তিনি বিএনপির নেতা হয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামাল আহমেদ করিম।
তিনি বলেন, অনেক বছর আগে আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন ছাত্রদলের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে যুক্ত হয়েছি। ব্যবসা পরিচালনার জন্য যে দল যখন ক্ষমতায় আসে, তাদের সঙ্গে সখ্যতা রেখে চলতে হয়। তবে আওয়ামী লীগের কোনো পদে আমি ছিলাম না। মাহবুবউল আলম হানিফের সঙ্গে তার একাধিক ছবি ও ভিডিও থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল আহমেদ করিম বলেন, আমি অনেক ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে চলাফেরা করতে হয়েছে। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, “যে যার মতো করে সংগঠনের নাম দিয়ে দোকান খুলে বসেছে। এ ধরনের সংগঠনের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এসব সংগঠন সরাসরি ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের জানাব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করব।” কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন বলেন, “এটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কোনো অঙ্গসংগঠন নয়। জেলা বিএনপির সঙ্গেও এর কোনো লিংকআপ নেই এবং আমরা এটি পরিচালনা করি না। তবে এ ধরনের ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে দল বিতর্কিত হতে পারে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য