কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ১:২১ এএম

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বামী পরিত্যাক্তা দুই সন্তানের জননী, তাসলিমা খাতুন (২৮) নামের এক নারী নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো অবস্থা সংকটপূর্ণ। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার জেহেল আলীর ছেলে, সাদ্দাম (৩০) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাসলিমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
তাসলিমার একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিল সাদ্দাম। তাসলিমা ভিডিওটি মুছে দেওয়ার জন্য সাদ্দামকে অনুরোধ করেন। তবে সাদ্দাম ভিডিওটি মুছে না দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার কারণে লোক লজ্জার ভয়ে তাসলিমা নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, তাসলিমা সাদ্দামকে বিয়ের জন্য বললে বিভিন্ন সময় বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে শনিবার বিয়ের বিষয়ে আবারও কথা বলতে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাসলিমা নিজের বাড়িতে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি সাদ্দামের বাড়ির কাছে গিয়ে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। তাসলিমার সঙ্গে সাদ্দামের সম্পর্ক ও বিয়ের চাপ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তার মা ছাবেরন নেছা জানান, সাদ্দাম একজন ভ্যানচালক, ইতিপূর্বে আমাদের বাসা মিরপুর উপজেলায় ছিল সেই বাসার মালামালা নেওয়ার কাজে সাদ্দামকে ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হত, কয়েকদিন আগে সাদ্দাম আমার বাড়ির টিন কেটে আমার মেয়ের একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করে আমার মেয়ে সাদ্দামকে বারবার অনুরোধ করে ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য কিন্তু সাদ্দাম সেটি না করে বিভিন্ন লোকজনকে ভিডিওটি দেখাতে থাকে এবং বিভিন্ন জনের মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়।
এমন অবস্থায় চক্ষু লজ্জা ও মানসম্মানের ভয়ে আমার মেয়ে তাসলিমা শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে, আমরা এর বিচার চাই। তাসলিমার পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান আমরা বিষয়টি অবগত রয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য