খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ৩:৯ এএম

মোশারফ হোসেন ॥ আষাঢ়ের শুরু থেকেই থেমে নেই বৃষ্টি। টানা বর্ষণে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সাধারণ মানুষের জনজীবনে। একদিকে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকেই কুমারখালীতে বৃষ্টির আমেজ শুরু হয়। এরপর থেকে টানা ২৩ দিন ধরে কখনো মুষলধারে, আবার কখনো থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণের ফলে উপজেলা শহরের বেশ কয়েকটি মূল সড়কসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় থৈ থৈ করছে বৃষ্টির পানি; দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।
গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে সরজমিনে শহর ঘুরে দেখা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে পুরো এলাকা একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই অল্প কিছু ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচল করতে দেখা গেছে। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকলেও ক্রেতার দেখা নেই বললেই চলে। তবে পেটের তাগিদে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাস্তায় নেমেছেন রিকশাচালক, ইজিবাইক চালক ও দিনমজুরেরা। কিন্তু রাস্তায় পথচারী ও যাত্রী না থাকায় তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
সবুজ নামের এক ইজিবাইক চালক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ”আষাঢ়ের শুরু থেকেই টানা বৃষ্টি। বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু যাত্রী পাচ্ছি না। সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” একই ভোগান্তির কথা জানান দিনমজুর রফিকুল মিয়া। তিনি বলেন, “বৃষ্টির কারণে কোনো কাজে যেতে পারছি না। একদিন কাজ না করলে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়।” রিকশাচালক মিলন বলেন, “শহরে লোকজনের দেখা নেই। তাও মাথার ওপর ছাতা ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছি, যদি দু-একটা যাত্রী পাই।
আজ ভাড়া খাটতে না পারলে রাতে বাচ্চার মুখে খাবার তুলব কী করে?” এদিকে শুধু শহর নয়, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে রোপা আমন চাষিরা ধানক্ষেত নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃষ্টির পানি খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। স্বল্পমেয়াদি এই জলাবদ্ধতায় আমন চাষের তেমন বড় ধরনের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) সারাদিন কুষ্টিয়ায় (ঊনচল্লিশ) মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য