খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ২:৫১ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের খাজানগর এলাকায় চালকল ও মিল-কারখানা থেকে নির্গত ছাই, ধুলাবালি ও বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষণ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (২৪ জুন) কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া ওই এই অভিযোগ পত্রে এলাকাবাসী জানান, খাজানগর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ৪০০টি চালকল ও মিল-কারখানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব কারখানা থেকে নির্গত ছাই, ধুলাবালি ও বিভিন্ন বর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনেক কারখানায় পরিবেশগত বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় বাতাসে ধুলা ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে শিশু, বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখের জ্বালাসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। একই সঙ্গে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও ফসলি জমি ধুলা ও ছাইয়ে ঢেকে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং এলাকাটি ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তারা বলেন, শিল্পায়ন ও উন্নয়নের বিরোধী নন তারা। তবে মানুষের জীবন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আবেদনে দূষণকারী মিল-কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, আধুনিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমদাদুল হক বলেন, জেলার বিভিন্ন রাইস মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের একাধিক অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। জেলায় প্রায় ৪০০টি রাইস মিল রয়েছে। এর মধ্যে কিছু মিলের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে। অটো রাইস মিলগুলোর মধ্যে কয়েকটির পরিবেশগত ছাড়পত্র মিললেও, অন্যরা কেউ কাগজপত্র জমা দিয়েছে, আবার কেউ এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু পরিবেশগত ছাড়পত্র নিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।
খুব শিগগিরই মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের সতর্ক করা হবে। এরপরও কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন আর রশিদ বলেন, এই মর্মে আমরা একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। আমরা এর পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করছি। রাইস মিল মালিকগণ যেন পরিবেশের বিধি লঙ্ঘন না করে । কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এর লক্ষ্যে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মিল-কারখানা মালিকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য